বিশ্বে জনপ্রিয় হচ্ছে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ মডেল, ট্রাম্পের শুল্ক-হুঁশিয়ারির মুখে ‘আত্মনির্ভর’ পথে হাঁটার ডাক কানাডার প্রধানমন্ত্রীর
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: আমেরিকা–কানাডা সম্পর্কের টানাপোড়েন নতুন মাত্রা পেল। চিনের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি করলে কানাডার উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই পরিস্থিতিতে বিদেশি পণ্যের উপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশের অর্থনীতিকে স্বনির্ভর করার বার্তা দিলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনি। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘আত্মনির্ভর ভারত’ ভাবনার অনুকরণেই এখন নিজের দেশের বাজারকে শক্তিশালী করতে চাইছেন কারনি।
শনিবার ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে দেন কানাডাকে। তিনি বলেন, চিনা পণ্য আমেরিকায় ঢোকানোর জন্য যদি কানাডাকে ‘ড্রপ-অফ পোর্ট’ বা মধ্যবর্তী কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তবে তার ফল ভোগ করতে হবে অটোয়াকেই। ট্রাম্পের ঘোষণা, চিনের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি হলে কানাডার পণ্যের উপর আমেরিকা ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে।
এই হুমকির পর দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কানাডার মানুষই দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ও স্বনির্ভর করে তুলতে পারে। কানাডার নাগরিকরাই দেশের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হতে পারেন।” বিদেশি পণ্যের উপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় পণ্য ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরেই শিল্প পরিকাঠামো গড়ে তোলার উপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই চিন সফরে গিয়েছিলেন মার্ক কারনি। ওয়াশিংটনের উপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যেই বেজিংয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর পথে হাঁটছে অটোয়া। চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর কারনি জানান, দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য-প্রতিবন্ধকতা দূর করতে এবং শুল্ক হ্রাসের লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যচুক্তির প্রয়োজন রয়েছে।
এই চুক্তি কার্যকর হলে কানাডা থেকে আমদানিকৃত ক্যানোলা পণ্যের উপর চিনের ৮৪ শতাংশ শুল্ক কমে ১৫ শতাংশে নামতে পারে। পাশাপাশি কানাডার নাগরিকদের জন্য ভিসা ছাড়াই চিনে প্রবেশের সুবিধা দেওয়া হতে পারে। বিনিময়ে ৬.১ শতাংশ শুল্কহারে প্রায় ৪৯ হাজার চিনা বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানি করতে সম্মত হতে পারে কানাডা।
তবে কানাডা-চিনের এই ঘনিষ্ঠতা ভালো চোখে দেখছে না আমেরিকা। তার উপর গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের আগ্রাসী অবস্থানের বিরোধিতা করে প্রকাশ্যে আপত্তি জানান কারনি। এই সব মিলিয়েই অটোয়ার উপর চাপ বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ট্রাম্পের ‘শুল্ক-চাপ’ মোকাবিলায় আত্মনির্ভরতার পথকেই প্রধান অস্ত্র হিসেবে বেছে নিচ্ছে কানাডা। দেশের বাজারকে শক্তিশালী করা, স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো এবং বিদেশি নির্ভরতা কমানো—এই তিন লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আগামী দিনে অর্থনৈতিক কৌশল সাজাতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনি।


