Tuesday, June 18, 2024
রাজ্য​

সাংবাদিকদের ‘করোনা যোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি মমতার

কলকাতা: জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাংবাদিকরা সংবাদ সংগ্রহের জন্য পড়ে থাকেন রাস্তাঘাটে, খেলার মাঠে, রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে, ভোটকেন্দ্রের বাইরে, শ্মশানে, বিমানবন্দরে, হাসপাতলে.. কোথায় উপস্থিতি নেই তাঁদের। অতিমারি করোনার সময় কোভিড হাসপাতালগুলোর বাইরে থেকে খবর সংগ্রহ করে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন তাঁরা। করোনার টিকাকরণ কেন্দ্রের বাইরে থেকে মানুষের নানা সুবিধা-অসুবিধার কথা তাঁরা তুলে ধরছেন। সেই তাঁদের সুরক্ষা নিয়ে উঠেছিল প্রশ্ন। সাংবাদিকদের টিকাকরণ নিয়ে ভাবেনি কেন্দ্রীয় সরকার। সেদিক দিয়ে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল মমতা সরকার।

২ মে বিধানসভা ভোটের ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকারের বিজয় নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পর তৃণমূল নেত্রী সাংবাদিকদের ‘করোনা যোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি দিলেন। তিনি জানান, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা পরিস্থিতিতে সাংবাদিকরা কাজ করে চলেছেন। ইতিমধ্যেই অনেক সাংবাদিক মারাও গিয়েছেন। তাই আমি সাংবাদিকদের করোনা যোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা করছি।

উল্লেখ্য, করোনাকালীন সময়ে খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে গোটা দেশে করোনার বলি হয়েছেন অন্তত ১৫০ জন সাংবাদিক। সেই সাংবাদিকদের টিকাকরণের ক্ষেত্রে এগিয়ে আসেনি দেশের তেমন কোনও রাজ্যই! কেবলমাত্র উত্তরাখণ্ড সরকার গত এপ্রিলে সাংবাদিকদের ভ্যাকসিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

১ মে’র আগে দেশে ৪৫ বছরের বেশি বয়স্ক এবং প্রথম সারির করোনা যোদ্ধাদেরকেই করোনার টিকা দেওয়া হয়। ১৮ বছরের উপরে যারা তাদের ১ মে থেকে টিকা দেওয়া হবে। তবে করোনার টিকার যোগান কম থাকায় ১ মে থেকে দেশের অধিকাংশ রাজ্যেই ১৮ বছরের উর্দ্ধে বয়স্কদের টিকা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

তাই নিজেদের জীবন বাজি রেখে যাঁরা রাস্তায় ঘাটে নেমে সকলের সামনে খবর তুলে ধরেন, তাঁদের সুরক্ষা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। তাই সাংবাদিকদের টিকাকরণের ক্ষেত্রে কোনও নির্দিষ্ট বয়সের সীমা না রেখে ভ্যাকসিন দেওয়ার দাবি ছিল অনেকদিন ধরেই।কেননা সামনের সারির যোদ্ধা হিসেবে অতিমারির বিরুদ্ধে লড়াই চালাচ্ছেন সাংবাদিকরা। খবর পৌঁছে দিয়ে অতিমারি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করছেন তাঁরা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দাবিকে মান্যতা দিয়ে সাংবাদিকদের করোনা যোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা করলেন।

Published by: Somoresh Sarkar