Sunday, April 21, 2024
দেশ

লাভ জিহাদ মামলা: বাবা-মা-স্বামী নয়, হাদিয়ার অভিভাবক কলেজের ডিন!

তিরুবনন্তপুরম: বাবা-মা অভিযোগ করেছিলেন তাদের মেয়ে আখিলা আশোকানকে (২৫) জোর করে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে। তার মগজধোলাই করা হয়েছে।

গত বছর ধর্মান্তরিত হন কেরালার সেই তরুণী হাদিয়া জাহান (ধর্মান্তরিত হওয়ার পর নাম)। এরপর মুসলিম যুবক শাফিন জাহানকে (২৬) বিয়ে করেন।

হাদিয়া দাবি করেছেন, তাকে জোর করা হয়নি। সোমবার সুপ্রিম কোর্টেও সে কথা বলেছেন। তিনি স্বামী শাফিন জাহানের কাছে থাকতে চেয়েছেন। এদিকে বাবা-মা তাকে নিজেদের কাছে রাখতে চান।

হাদিয়া জানিয়েছেন, ইসলাম ধর্মপালনের পাশাপাশি স্বামীর সঙ্গে বসবাসের জন্য তিনি ‘স্বাধীনতা’ চান। পাশাপাশি তাঁর বক্তব্য, ‘‘আমি ভাল ভাবেই জানি, ঠিক কী করছি।’’

হাদিয়াকে একাধিক প্রশ্ন করে বিচার বিভাগীয় বেঞ্চ। তামিলনাড়ুর সালেম শহরের একটি মেডিক্যাল কলেজে হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন ও সার্জারি বিষয়ে পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য স্থানীয় অভিভাবক হিসেবে কোনও এক জনের নাম জানতে চান বিচারপতিরা। তার উত্তরে হাদিয়া জানান, স্বামী শাফিন জাহান তাঁর অভিভাবক হতে পারেন এবং এই দায়িত্ব অন্য কেউ পালন করুন তা চান না তিনি। হাদিয়ার বক্তব্যে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড় বলেন, “স্বামী কখনই স্ত্রীর অভিভাবক নন। এবং স্ত্রী তাঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তি হতে পারেন না। সমাজে তাঁর একটি নিজস্ব পরিচিতি রয়েছে। এমনকী, আমিও আমার স্ত্রীর অভিভাবক নই।”

শীর্ষ আদালতকে হাদিয়া জানিয়েছেন, নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চান তিনি। তবে রাজ্য সরকারের টাকাতে নয়, স্বামীই তাঁর পড়াশোনার যাবতীয় খরচ বহন করবেন।

হাদিয়াকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে শীর্ষ আদালতের বিচারপতিরা কোনও মন্তব্য করেননি ঠিকই, তবে বাবা-মার হেফাজত থেকেও প্রাপ্তবয়স্ক তরুণী হাদিয়াকে মুক্তি দেয়া হয়েছে।

সোমবার শুনানি শেষ হওয়ার পর সুপ্রিম কোর্ট বলেছেন, কারও কাছেই থাকবে না হাদিয়া। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত হাদিয়ার অভিভাবক হবেন ওই মেডিক্যাল কলেজের ডিন। সে কলেজ হোস্টেলে থাকবে। তবে স্বামীর সঙ্গেও দেখা করতে পারবে।

প্রসঙ্গত, ২৬ বছরের হাদিয়ার সঙ্গে ওমান ফেরত্ শাফিন জাহানের পরিচয় হয় এক ইসলামি বিয়ের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। পরবর্তী সময়ে তাঁদের বিয়ে হয়। হাদিয়ার বাবা কেএম অশোকানের অভিযোগ, মেয়ের মগজধোলাই করে তাঁকে বিয়ে করেছে শাফিন জাহান। মামলা দায়ের হয় কেরল হাইকোর্টে। এরপর গত মে মাসে কেরল হাইকোর্ট এই বিয়েকে বাতিল করে দেয় এবং হাদিয়াকে তার বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। এরপর কেরল হাইকোর্টের বিয়ে বাতিলের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন শাফিন জাহান।

জাতীয় তদন্তকারী দল দাবি করেছে, যে ওয়েবসাইটটির মাধ্যমে হাদিয়া-শাফিনের যোগাযোগ হয়েছিল সেটি ‘নকল’। তাদের মতে, ওই ওয়েবসাইটটির আসল উদ্দেশ্য জোর করে ধর্মান্তকরণ এবং জঙ্গি বাহিনীতে নিয়োগ করা।