Monday, August 24, 2026
Latestকলকাতা

মুসলিমকে বিয়ে করে সীতা থেকে রশিদা, অগ্নিমিত্রা পালের ধমক খাওয়া মহিলার করুণ কাহিনী সামনে আনলেন কুণাল ঘোষ

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ফুটপাত বসবাসের জন্য নয়। সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য। দিনকয়েক আগে এক মহিলাকে এমনটাই বলে ধমক দিয়েছিলেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। এবার ওই মহিলার সঙ্গে দেখা করলেন কুণাল ঘোষ। 

কুণাল ঘোষ বলেন, “ফুটপাথ সাফ থাকুক, কিন্তু মানবিক মুখ সরিয়ে নয়। মাননীয়া মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল শনিবার পার্ক স্ট্রিট/ফ্রি স্কুল স্ট্রিট এলাকায় গেছিলেন। দেখলাম বাচ্চার জন্য দুধ গরম করা এক ফুটপাথবাসিনীকে ধমকে বলছেন এসব থামিয়ে সরে যেতে। আমার বক্তব্য: ফুটপাথ পরিষ্কার হোক। কিন্তু সব অভিযানের একটা মানবিক মুখ থাকুক। আমাদের আর্থসামাজিক কাঠামোয় সবটা পুলিশ, বুলডোজার দিয়ে হয় না। উন্নত পশ্চিমি দেশের রাস্তাতেও ভিক্ষুক দেখেছি।

আজ ওইখানে ওই মহিলার কাছে গেছিলাম। কৌতূহল থেকে। বললেন, পুলিশ বলে গেছে উঠে যেতে। না হলে মেরে ওঠাবে। 

মহিলা যা বললেন, পাঞ্জাবের মেয়ে। হিন্দু। নাম সীতা। বিয়ে মুসলমানের সঙ্গে, এখন নাম রশিদা। স্বামী চলে যেতে এক ছেলে, দুই মেয়ে নিয়ে অথৈ জলে। ছেলে মারা গেছে। এক মেয়েও স্বামী পরিত্যক্তা। বাড়ি নেই। মেয়ে আর ছোট বাচ্চাকে নিয়ে রাস্তায় ধারেই থাকেন। রাস্তা, ফুটপাথ সাফাই করে দেন। আবর্জনা কোড়ান। আর যাওয়ার জায়গা নেই। মেয়ের অন্য বাচ্চাকে অতীতে পুলিশ কোনো হোমে দিয়ে এসেছিল। দীর্ঘদিন এখানে এভাবেই থাকেন। চারপাশের দোকানের সঙ্গে কোনো ঝামেলা হয় না। কিন্তু মন্ত্রী বলার পর পুলিশ বলেছে সরতে। কোথায় যাবেন, ঠিক নেই। ফুটপাতে কোনো ঝুপড়ি-টুপড়িও নেই। বললেন, এখানে চলতে বাধা নেই। কিন্তু তাড়িয়ে দিলে কোথায় যাব? মহিলার কথা: আমার কাছে ঈশ্বর আল্লা সব এক। কিন্তু আমরা এখন কী করব? কোথায় থাকব? কী খাব?

এরপর গেলাম পার্ক স্ট্রিট থানা। সঙ্গে বর্ণ বর্মণ, শুভ্রজিৎ হাজরা। পুলিশকে অনুরোধ করলাম, আমরাও চাই ফুটপাথ সাফ হোক। তবে এদের মেরে তুলবেন না। আপনারা খুঁজুন, সরকারকে বলুন, কোনো হোম বা আশ্রয়স্থলে পাঠান। আমরাও দেখছি। একটু সময় না দিয়ে গরিবতম মা, মেয়ে, নাতনিকে রাষ্ট্রশক্তির উচ্ছেদশাসনে বলি দেওয়া অমানবিক হবে। পুলিশ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

উন্নতি মানেই শুধু উচ্ছেদ-এটা হতে পারে না। সরকার পুলিশ, মিডিয়া নিয়ে এসে ছবি তুলে ফতোয়া দিয়ে গেল। কিন্তু মহিলাকে কেন ফুটপাথে বাচ্চার দুধ গরম করতে হচ্ছে, সেটা মানবিকতার সঙ্গে জেনে বিকল্প ব্যবস্থা করা গেল না? শুধু ফতোয়ার ভাইরাল ভিডিও দিয়ে কি উন্নয়ন সম্ভব? গরিব বলে ফুটপাতে থাকতে হবে? প্রশ্নটা শুনলাম। কিন্তু গরিবকে কেন ফুটপাথে থাকতে হয়, এটা ভাবাটা তো রাষ্ট্রের দায়িত্ব। চারপাশে চোর ডাকাত ঘুরছে। রাজনৈতিক আশ্রয় পাচ্ছে। সেটিং করে , দলবদল করে বাঁচছে। আর রাষ্ট্রের পুলিশের কাজ হবে ফুটপাথবাসিনীর বাচ্চার দুধ গরম করা স্টোভ হঠানো?

অবশ্য বিধ্বংসী, সর্বনাশা বন্যার জল দেখে যে সরকার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে গান ধরে, সেই সরকার যে গরিববিরোধী, অমানবিক; সেটা বুঝতে বেশি পরিশ্রম করতে হয় না।”