Friday, August 21, 2026
Latestআন্তর্জাতিক

৭০ বছর বয়সীকে বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় কিশোরীকে ২ বছর ধরে বন্দি রেখে নির্যাতন আফগানিস্তানে

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: আফগানিস্তানে জোরপূর্বক বিয়েতে রাজি না হওয়ায় এক কিশোরীকে প্রায় ২১ মাস ধরে বন্দি রাখার অভিযোগ উঠেছে তালিবানের বিরুদ্ধে। ‘বিবি সেদিকা’ নামে ওই কিশোরীর বয়স বর্তমানে ১৭ বছর। অভিযোগ, বাদঘিস প্রদেশের এক প্রভাবশালী ও প্রায় ৭০ বছর বয়সি তালিবান-ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিকে বিয়ে করতে অস্বীকার করায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেদিকা বাদঘিস প্রদেশের বালা মুর্গাব জেলার মুরিচাক গ্রামের বাসিন্দা। মাত্র ১২ বছর বয়সে তাঁর বাবার ঋণের বিষয়টি সামনে এনে খোদায় নজর নামে এক স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তির বাড়িতে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রায় ছয় মাস আটকে রাখার পর উপজাতীয় প্রবীণদের মধ্যস্থতায় তিনি পরিবারের কাছে ফিরে আসেন।

পরবর্তীতে সেদিকার ওপর ওই ব্যক্তিকে বিয়ে করার জন্য চাপ দেওয়া হয়। কিন্তু কিশোরী সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। অভিযোগ, বিষয়টি তালিবানের স্থানীয় আদালতে গেলে তাঁকে কার্যত দুটি বিকল্প দেওয়া হয়—বিয়ে মেনে নেওয়া অথবা কারাবাস। সেদিকা বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে কারাদণ্ডের রায় দেওয়া হয়।

সেদিকার পরিবারের দাবি, স্থানীয় পর্যায়ে আইনি লড়াই চালানোর পরও শেষ পর্যন্ত তাঁর মামলা তালিবানের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছয়। ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর কান্দাহারে তালিবানের সুপ্রিম কোর্ট থেকে তাঁকে আটকের মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। পরে তাঁকে কান্দাহার থেকে বাদঘিসের কালা-ই-নও কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।

কারাগারে থাকা অবস্থায় সেদিকাকে বিয়ে মেনে নিতে চাপ দেওয়া এবং নির্যাতন করার অভিযোগও উঠেছে। তাঁর পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, দীর্ঘদিনের বন্দিদশায় কিশোরীটি গুরুতর মানসিক আঘাতের শিকার হয়েছেন। মেয়ের দীর্ঘ বন্দিদশার কারণে তাঁর মাও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ।

এমনকি চলতি বছরের জুলাইয়ে সেদিকার মামলা ‘মীমাংসা’ করার জন্য তাঁকে ওই ব্যক্তির সঙ্গে মাত্র তিন দিনের জন্য বিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব তালিবানের স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছিল বলে সূত্রের দাবি। সেদিকার পরিবার সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এটিকে অন্যায় ও মানবাধিকারের পরিপন্থী বলে জানিয়েছে।

সেদিকার ঘটনাটি আফগানিস্তানে নারী ও কিশোরীদের অধিকার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। জোরপূর্বক বিয়ে, বাল্যবিবাহ এবং নারীদের স্বাধীনতার ওপর নানা বিধিনিষেধ নিয়ে তালিবান শাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে। সেদিকার ঘটনাও সেই বৃহত্তর মানবাধিকার সংকটের একটি উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। তবে তাঁর ওপর নির্যাতন ও আদালতের কার্যক্রম সংক্রান্ত অভিযোগগুলোর বিষয়ে তালিবানের পক্ষ থেকে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সেদিকার পরিবার এখন তাঁর মুক্তি এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছে। ১৭ বছর বয়সি এই কিশোরীর ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠছে—নিজের জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার অধিকার অস্বীকার করে তাঁকে বছরের পর বছর বন্দি রাখা এবং বিয়েতে বাধ্য করার চেষ্টা কতটা ন্যায়সঙ্গত। তাঁর ঘটনা আফগানিস্তানে নারীদের মৌলিক অধিকার ও আইনি সুরক্ষার পরিস্থিতি নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

Daily Mail News