রাতে জিবি মিটিং ডেকে পড়ুয়াদের মারধর, ফের উত্তপ্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ফের উত্তপ্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। বুধবার রাতে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল। অভিযোগ, জিবি মিটিংয়ের বিরোধিতা করে প্রতিবাদ জানাতে গেলে এবিভিপি সমর্থকদের উপর হামলা চালানো হয়। ঘটনায় ৪ জন এবিভিপি সমর্থক আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁদের যাদবপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে।
জানা গিয়েছে, বুধবার রাত ৯টার পর এসএফআই-সহ বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির তরফে একটি জিবি মিটিং ডাকা হয়েছিল। এই মিটিংয়ের বৈধতা নিয়েই আপত্তি তোলে এবিভিপি। তাদের বক্তব্য, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও ছাত্র ইউনিয়ন নেই। পাশাপাশি ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে রাজ্য সরকারের তরফে কোনও নির্দেশ বা বিজ্ঞপ্তিও জারি হয়নি। তাহলে কোন ক্ষমতাবলে জিবি বৈঠক ডাকা হল, সেই প্রশ্ন তোলে এবিভিপি।
অভিযোগ, জিবি মিটিংয়ের বিরোধিতা করে প্রতিবাদ জানাতে গেলে প্রায় ৭০-৮০ জন তাঁদের উপর চড়াও হন। এরপরই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হন বলে অভিযোগ। তাঁদের মধ্যে চারজন এবিভিপি সমর্থককে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছন এলাকার বিধায়িকা শর্বরী মুখোপাধ্যায়। আহত ছাত্রদের সঙ্গে দেখা করার পর তাঁদের নিয়ে যাদবপুর থানার উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি। বাম নেতা সৃজন ভট্টাচার্যের নাম উল্লেখ করেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে যাদবপুর থানার সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন এবিভিপি সমর্থকরা। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে জিবি মিটিংয়ের ভূমিকা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এবিভিপির অভিযোগ, জিবি মিটিংয়ের নামে অনেক সময় ‘খাপ পঞ্চায়েত’-এর মতো ব্যবস্থা করে ভিন্নমতাবলম্বী ছাত্রদের হেনস্থা করা হয়।
প্রশ্ন উঠছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও আনুষ্ঠানিক ছাত্র সংসদ না থাকলে জিবি মিটিং ডাকা যায়? একইসঙ্গে, কোনও ছাত্র সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বৈঠক যদি অন্য মতের ছাত্রদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক বা সামাজিক চাপ তৈরির হাতিয়ার হয়ে ওঠে, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা কী হওয়া উচিত?
একবিংশ শতাব্দীতে একটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মীমাংসা কী খাপ পঞ্চায়েতের মাধ্যমে হবে, নাকি নির্দিষ্ট সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যেই তা সমাধান করা হবে—যাদবপুরের সাম্প্রতিক ঘটনা সেই বিতর্ককেই ফের সামনে নিয়ে এল।


