Monday, August 24, 2026
কলকাতা

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মহম্মদ সুমন নিহারের রহস্যমৃত্যু: হামলা-প্রাণনাশের হুমকি, অমীমাংসিত প্রশ্ন

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মহম্মদ সুমন নিহারের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে এখনও একাধিক প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে। ২০২৩ সালে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও ছাত্রকল্যাণের বিষয়ে সক্রিয় থাকার সময় তিনি একাধিকবার সমস্যার মুখে পড়েছিলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ক্যাম্পাসে কিছু পড়ুয়াকে মদ্যপান ও মাদক সেবন করতে দেখে তিনি প্রতিবাদ করেন। মাদকে পড়ুয়াদের বুঁদ হয়ে থাকার ছবি তোলার চেষ্টা করেছিলেন। এরপরই তাঁকে হেনস্থা ও মারধরের অভিযোগ ওঠে। ফেব্রুয়ারি ২০২৩-এ তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগও দায়ের করেন। কয়েক দিনের ব্যবধানে সুমন নিহারের উপর দ্বিতীয়বারও হামলার অভিযোগ ওঠে।

এরপর অধ্যাপক সুমন নিহারের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের ছবি তোলার অভিযোগও ওঠে এবং বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ICC-তে পৌঁছয়। এই অভিযোগটি তাঁকে মাদকবিরোধী অবস্থানের কারণে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা ছিল—এমন দাবি বিভিন্ন মহলে ওঠে। ( সংবাদ প্রতিদিন

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঘটে যায় মর্মান্তিক ঘটনা। মুর্শিদাবাদের লালগোলার বালিপাড়ায় নিজের বাড়িতে অধ্যাপক নিহারকে সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা করে তদন্ত শুরু করে এবং দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। (আনন্দবাজার, আজকাল

অধ্যাপকের মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না—এটি স্পষ্ট হলেও, ২০২৩ সালের ক্যাম্পাস-সংক্রান্ত বিরোধ, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং পরবর্তী মৃত্যুর মধ্যে সরাসরি কোনও যোগসূত্র কি না, তা নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়েছে।

মুর্শিদাবাদের প্রত্যন্ত এলাকার এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে অধ্যাপক হওয়া সুমন নিহারের মৃত্যু তাঁর পরিবার ও সহকর্মীদের কাছে নিঃসন্দেহে এক গভীর আঘাত। তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী ছিল, তিনি কোনও চাপ বা হুমকির মধ্যে ছিলেন কি না—আজও এই প্রশ্নগুলোর নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের অপেক্ষায় তাঁর পরিবার।

উল্লেখ্য, এটাই প্রথম নয়, এর আগেও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক পড়ুয়া- অধ্যাপকের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। তবে বিচার কী মিলেছে? উঠছে প্রশ্ন।