Friday, June 14, 2024
কলকাতা

‘দিদি আমাদের বাঁচান’, মেধাতালিকা ভুক্ত বঞ্চিত শিক্ষক পদপ্রার্থীদের ধর্ণা অব্যাহত

গান্ধী মূর্তির পাদদেশে নবম- দ্বাদশ স্তরের মেধাতালিকা ভুক্ত অথচ চাকরি থেকে বঞ্চিত শিক্ষক পদপ্রার্থীদের যে ধর্ণা চলছে, আজ তার ১২৯ তম দিন। ধর্ণারত হবু শিক্ষক পদপ্রার্থীগণ জানিয়েছেন যে মেধাতালিকায় সামনের দিকের Rank এ থেকেও তারা চাকরিতে নিয়োগপত্র পাননি অথচ মেধাতালিকায় অনেক পিছনের দিকের Rank এ থাকা বহু প্রার্থীদের অবৈধভাবে চাকরিতে নিয়োগ করেছে পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন।

পাশাপাশি মেধাতালিকায় কোথাও নাম না থাকা ফেলকরা বহু প্রার্থীদের অবৈধভাবে চাকরিতে নিয়োগ করা হয়েছে স্কুল সার্ভিস কমিশন কর্তৃক। বঞ্চিত শিক্ষক পদপ্রার্থীগণ জানিয়েছেন ১২৯ দিন ধরে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে তৃতীয় বারের জন্য শান্তিপূর্ণভাবে ধর্ণা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। এর আগে বঞ্চিত শিক্ষক পদপ্রার্থীগণ ২০১৯ সালে কলকাতার প্রেসক্লাবের সামনে যুব ছাত্র অধিকার মঞ্চের ব্যানারে ২৯ দিনের অনশন করেছিলেন।

উক্ত অনশন মঞ্চে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয়া স্বয়ং এসে বঞ্চিত শিক্ষক পদপ্রার্থীদের আশ্বাস দিয়েছিলেন যে মেধাতালিকা কোনো প্রার্থীদের বঞ্চিত করা হবে না। প্রয়োজনে আইনের কিছু পরিবর্তন করে হলেও তাদের নিয়োগের সুব্যবস্থা করা হবে। ঐ মঞ্চে দাঁড়িয়ে রাজ্যের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী উক্ত সমস্যা সমাধানের জন্য একটি কমিটি গঠনের নির্দেশও দিয়েছিলেন। এই মোতাবেক প্রশাসনিক স্তরের মধ্য থেকে ৫ জন এবং বঞ্চিত শিক্ষক পদপ্রার্থীদের মধ্য থেকে ৫ জনকে নিয়ে কমিটিও গঠিত হয়েছিল। কিন্তু এককালীন দেখা গেছে বঞ্চিত শিক্ষক পদপ্রার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে যে ৫ জন কমিটিতে ছিল তারা মেধাতালিকায় অনেক পিছনের দিকের Rank এ থাকা সত্ত্বেও নিজেরা সহ তাদের ঘনিষ্ঠ চাকরি প্রার্থীদের নিয়ে কমিশনের সঙ্গে সমঝোতা করে চাকরি নিয়ে পালিয়ে যায়। ফলে মেধাতালিকা ভুক্ত বঞ্চিত শিক্ষক পদপ্রার্থীদের সার্বিক সমস্যার সমাধান হয়নি। তাই তারা ২০২১ সালে সেন্ট্রাল পার্কের ৫ নম্বর গেটের সামনে ১৮৭ দিনের অবস্থান বিক্ষোভ ও অনশন করেছিলেন।

পরবর্তীতে ২০২১ সালে ১০ ই আগস্ট বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু মহাশয় এবং স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান শুভশঙ্কর সরকার মহাশয় নিউজ চ্যানেলের সামনে বার্তা দিয়েছিলেন যে বঞ্চিত শিক্ষক পদপ্রার্থীদের বিষয়টি পজিটিভ দিক থেকে দেখা হচ্ছে এবং উক্ত সমস্যা সমাধানের জন্য চল্লিশ দিন সময় নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সময় অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও মেধাতালিকা ভুক্ত বঞ্চিত শিক্ষক পদপ্রার্থীদের নিয়োগের বিষয়ে কোনো রকম সদিচ্ছা কমিশনের পক্ষ থেকে দেখা যায়নি। ফলে বঞ্চিত শিক্ষক পদপ্রার্থীগণ কলকাতা হাইকোর্টের কাছে অবস্থানে বসার পারমিশন নিয়ে ২০২১ সালের ৮ ই অক্টোবর থেকে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে যুব ছাত্র অধিকার মঞ্চের ব্যানারে অরাজনৈতিক ভাবে ১২৯ দিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ধর্ণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

যুব ছাত্র অধিকার মঞ্চের স্টেট কো- অর্ডিনেটর সুদীপ মন্ডল জানিয়েছেন যে, মেধাতালিকা ভুক্ত বঞ্চিত শিক্ষক পদপ্রার্থীদের সমস্যা সমাধানের জন্য তারা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইছেন।তাদের দাবি মেধাতালিকা ভুক্ত অথচ চাকরি থেকে বঞ্চিত সকল শিক্ষক- শিক্ষিকা পদপ্রার্থীদের অতি দ্রুত চাকরিতে নিয়োগ করতে হবে।