Saturday, April 13, 2024
আন্তর্জাতিক

প্রার্থনা করিয়ে ধর্ষণ, ইয়াজেদী নারীর দুঃখগাথা

জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সদস্যরা তাকে যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহার করে। শত শত ইয়াজিদি নারী আইএস জঙ্গিদের হাতে বন্দি। তার মতোই যৌনদাসী হয়ে জীবন কাটাচ্ছেন তারা। সেই নরক থেকে পালিয়ে এসে ভয়ানক দিনগুলোর অভিজ্ঞতা জানাতে হাতে তুলে নিয়েছিলেন কলম। ‘দ্য লাস্ট গার্ল’ শিরোনামে বইটিতে আইএস জঙ্গিদের হাতে বন্দী নারীদের নির্মম নির্যাতন যন্ত্রণার কথা তুলে ধরেন নাদিয়া মুরাদ।

প্রায় ৩ বছর আগে বন্দী দশা থেকে মুক্তি পাওয়া ইয়াজেদী নারী নাদিয়া মুরাদ বলেন, কাউকে না কাউকে তো এই কথা তুলে ধরতেই হত। বিশ্ববাসী জানুক কীভাবে ইয়াজেদী নারীদের ওপর অত্যাচার চালায় আইএস।

২০১৫ তে পালিয়ে আসার পর জার্মানির একটি শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় পান নাদিয়া। এরপর জাতিসংঘের ‘গুডউইল এম্বাসেডর’ হিসেবে নিযুক্ত হন। ২০১৬ সালে জাতিসংঘের মানবাধিকার পুরুষ্কার পান নাদিয়া মুরাদ। ‘পেঙ্গুইন র‍্যান্ডম হাউস’ এর প্রকাশনায় বইটি গত ৭ নভেম্বর প্রকাশ পায়। বর্তমানে জাতিসংঘের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে কাজ করছেন তিনি। আইএস জঙ্গিদের হাতে বন্দি ইয়াজিদি নারী এবং যারা জঙ্গিদের হাত থেকে পালিয়ে এসেছে তাদের নিয়ে কাজ করছেন নাদিয়া।

সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, ২০১৪ সালের উত্তর ইরাক। ইয়াজেদি সম্প্রদায়ের একটি গ্রাম কোচো। বেশিরভাগ মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে বাস করে। তবুও আনন্দ আর হাসির অভাব নেই সেখানে। সবই ঠিকঠাক চলছিল। হঠাৎ আইএস জঙ্গিরা হানা দেয় সাজানো গোছানো সে গ্রামে। খুন, ধর্ষণ, লুটপাট এর সঙ্গে সঙ্গে বন্দী করা হচ্ছিল গ্রামবাসীদের। নাদিয়া শুধু ভিতর থেকে ব্রাশ ফায়ারের আওয়াজ শুনতে পান। নিজের ছয় ভাইকে সেদিন হারান নাদিয়া। তারপর অন্যদের সাথে মসুলের বন্দী শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সেখানেই যৌনদাসী হিসেবে বিক্রিত হন তিনি।

নাদিয়া মুরাদ

নাদিয়া বলেন, বাসে করে যাওয়ার সময় থেকে শুরু হয় শারীরিক নির্যাতন। একজন আমার তলপেটে জ্বলন্ত সিগারেট চেপে ধরে।সেই আমাকে কিনে নেয়। বন্দী জীবনের সেসব দুর্বিষহ অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে ইয়াজেদী এ নারী বলেন, “ইউরোপ, সৌদি আরব, তিউনিশিয়া থেকে প্রচুর জঙ্গি আসত। আর তারা নিত্য দিন ধর্ষণ করত আমাকে। ধর্ষণ আগে প্রার্থনা করিয়ে নিত।

অনেক ইয়াজিদি নারী সম্ভ্রম বাঁচাতে আত্মহত্যা করেন। মুরাদ বলেন, ‘বন্দী দশার শুরু থেকেই পালানোর সুযোগ খুঁজতাম। কিন্তু ধরা পড়ে গিয়েছিলাম। ধরা পড়তেই চলে গণধর্ষণ। ভেঙে পড়িনি। আমার মতোই হাজারো নারী জঙ্গিদের কব্জায় ছিল, এটাই আমাকে সাহস জুগিয়েছিল। নিজেকে সান্ত্বনা দিয়ে বলতে থাকলাম একদিন মুক্ত হবোই।’

আবারও সুযোগ পেয়ে যান তিনি। একদিন ধর্ষণ শেষে এক জঙ্গি দরজা বন্ধ না করেই চলে যান। এ সুযোগটিই কাজে লাগান তিনি। ‘ধরা পড়লেই নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও সাহস ভর করে বেড়িয়ে পরেছিলাম’-বলেন নাদিয়া। আর পিছু ফিরে তাকাননি তিনি। ক্লান্ত নাদিয়া মসুলের একটি বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেয়। ঐ বাড়ির বাসিন্দারাই তাকে পরবর্তীতে মসুল থেকে পালিয়ে আসতে সাহায্য করে।

নাদিয়া মুরাদ বলেন, ‘মসুলে ২০ লাখ মানুষের বাস। দু’হাজার মেয়েকে আটকে রেখেছিল জঙ্গিরা। মসুলের বাসিন্দারা কেউ এগিয়ে আসেননি তাদের উদ্ধারে। যারা এগিয়ে এসেছিলেন তারা হাজার হাজার ডলার দাবি করছিলেন।’

সূত্র- ওয়াশিংটন পোস্ট