Thursday, July 23, 2026
Latestদেশ

‘কাশ্মীরের কথা ভুলে যাও, আগে নিজেদের ঘর সামলাও’, রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তানকে কড়া জবাব ভারতের

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পাকিস্তানের বক্তব্যের কড়া জবাব দিল ভারত। বুধবার রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত পার্বতনেনি হরিশ স্পষ্টভাবে জানান, আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদকে যখন রাষ্ট্রনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তখন পারস্পরিক বিশ্বাস ও সদিচ্ছার ভিত্তিতে সিন্ধু জলচুক্তি (Indus Waters Treaty) অনুযায়ী সহযোগিতা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

প্রাকৃতিক সম্পদের সুশাসন নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বিতর্কে পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে ‘জলকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার’ করার অভিযোগ তোলে। পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আসিম ইফতিখার আহমেদ দাবি করেন, সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখার ভারতের সিদ্ধান্ত ‘অবৈধ’ এবং এর ফলে পাকিস্তানের ২৪ কোটিরও বেশি মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।

এর জবাবে ‘রাইট অব রিপ্লাই’ ব্যবহার করে ভারতের রাষ্ট্রদূত পার্বতনেনি হরিশ বলেন, পাকিস্তান এই আন্তর্জাতিক মঞ্চকে একটি ভুয়ো বয়ান প্রতিষ্ঠার জন্য অপব্যবহার করেছে। তিনি বলেন, “সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট এবং অপরিবর্তিত। যখন সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদকে নিয়মিতভাবে রাষ্ট্রনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তখন পারস্পরিক আস্থা ও সদিচ্ছার ভিত্তিতে সহযোগিতা প্রত্যাশা করা যায় না।”

উল্লেখ্য, ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সিন্ধু জলচুক্তির মাধ্যমে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু অববাহিকার ছয়টি নদীর জল বণ্টনের কাঠামো নির্ধারিত হয়। ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পাহেলগামে জঙ্গি হামলার পর ভারত এই চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। ভারতের দাবি, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ চলতে থাকলে এই চুক্তির আওতায় স্বাভাবিক সহযোগিতা সম্ভব নয়।

জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গেও পাকিস্তানের বক্তব্যের জবাবে ভারত সাফ জানিয়ে দেয়, “জম্মু ও কাশ্মীর অতীতে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, বর্তমানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। এটি ভারতের সাংবিধানিক ও আইনি বাস্তবতা, যা পাকিস্তান ইচ্ছাকৃতভাবে অস্বীকার করে।”

ভারতের রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর সংক্রান্ত একমাত্র অমীমাংসিত বিষয় হলো পাকিস্তানের বেআইনি দখলে থাকা ভারতের সার্বভৌম ভূখণ্ড। ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার পরিবর্তে পাকিস্তানের উচিত নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যার সমাধানে মনোযোগ দেওয়া।

একইসঙ্গে প্রাকৃতিক সম্পদের সুশাসনের গুরুত্ব তুলে ধরে পার্বতনেনি হরিশ সতর্ক করেন যে, প্রাকৃতিক সম্পদের অবৈধ শোষণ ও পাচার অনেক ক্ষেত্রে সশস্ত্র গোষ্ঠীর অর্থায়নে সহায়তা করে এবং সংঘাতকে দীর্ঘায়িত করতে পারে। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদ যেন প্রতিটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির চালিকাশক্তি হয়ে ওঠে, তার জন্য স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জাতীয় মালিকানাভিত্তিক শাসনব্যবস্থা, দায়িত্বশীল সরবরাহ শৃঙ্খল, অধিক স্বচ্ছতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য।