Monday, June 24, 2024
আন্তর্জাতিক

বাড়ছে জেহাদিদের গতিবিধি, একের পর এক সন্ত্রাসী হামলা, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বিপাকে বাংলাদেশ

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শিবিরে ক্রমাগত বাড়ছে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ। একের পর এক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় উদ্বিগ্ন বাংলাদেশ সরকার। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশ। গত কয়েকদিনে একের পর এক রোহিঙ্গা নেতা খুন ও অপহরণের ঘটনা ঘটেছে।

রোহিঙ্গা শিবিরে ক্রমশ বাড়ছে জেহাদিদের গতিবিধি। মায়ানমার সরকারের লাগাতার আক্রমণের মুখে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেয় বাংলাদেশ। তবে তাদের আশ্রয় দিয়ে কার্যত বিপাকে বাংলাদেশ। উদ্বেগজনক এই পরিস্থিতি নিয়ে এবার উদ্বেগ প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

শেখ হাসিনা বলেন, “সম্পূর্ণ মানবিক কারণে আমরা অস্থায়ীভাবে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি। গত মাসে রোহিঙ্গাদের বাস্তুচূত হওয়ার ৬ বছর পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতি এখন আমাদের জন্য সত্যিই অসহনীয় হয়ে উঠেছে।” 

নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনে শেখ হাসিনা বলেন, “আমি মায়ানমার থেকে বাস্তুচূত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘায়িত উপস্থিতি বাংলাদেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং সামাজিক-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে।”

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্রত্যাবাসন নিয়ে অনিশ্চয়তা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক হতাশার জন্ম দিয়েছে। মৌলবাদকে ইন্ধন দিচ্ছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে এটি আমাদের আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে। বাস্তুচূত রোহিঙ্গারা তাদের নিজ দেশ মায়ানমারে ফিরে যেতে চায় এবং সেখানে শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন করতে আগ্রহী। আসুন আমরা এই নিঃস্ব মানুষের জন্য তাদের নিজের দেশে ফিরে যাওয়া নিশ্চিত করি।” 

শেখ হাসিনা বলেন, “আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দক্ষতা ও বৈধতা নিয়ে মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে। এর ফলে একটা শান্তিপূর্ণ এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণে অর্জিত সাফল্য ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।”

চীনের মধ্যস্থতায় একটি পাইলট প্রকল্পের অধীনে  প্রত্যাবাসন শুরু করতে মিয়ানমারের প্রতিনিধিরা এ বছর বেশ কয়েকবার বাংলাদেশ সফর করেছেন। তবে তাতে পরিস্থিতির কোনও অগ্রগতি এখনও হয়নি।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বেশির ভাগই কক্সবাজার এবং বঙ্গোপসাগরের ভাসানচরে বসবাস করে।

বেশিরভাগ শরণার্থী বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মায়ানমারের পশ্চিম উপকূলের একটি রাজ্য রাখাইনে ২০১৭ সালের আগস্টে একটি নৃশংস সামরিক দমনপীড়ন থেকে বাঁচতে পালিয়ে আসেন। মায়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হওয়া ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।