Wednesday, July 24, 2024
সম্পাদকীয়

মাসিক ঋতুস্রাবের প্রথম দিনে সবেতন ছুটি পাবে মহিলা কর্মীরা

প্রত্যেক মেয়েদের কাছে তাদের মাসিক ঋতুস্রাবের প্রথম দিনটি ভীষন যন্ত্রনাদায়ক। এইদিনটিতে তারা শারীরিক ও মানসিক ভাবে অনেকটাই অস্বতিতে ভোগেন। ঋতুস্রাবের প্রথম দিনে তাদের বমি বমি ভাব, মানসিক অবসাদ, মাথা ধরা, ক্র্যাম্প, অফ মুডে থাকা, অনবরত রক্তক্ষরন কিংবা পেটব্যাথার মত নানা ধরনের অসুবিধা তাদের শরীরকে অনেকটাই দূর্বল করে দেয়। ঋতুস্রাবের এই অস্বস্তির মাঝে প্রথম দিনে কষ্ট করে অফিস করা ভীষন যন্ত্রনাদায়ক।

তবুও ভারত সহ পৃথিবীর প্রায় সকল দেশের নারীরা এই তীব্র যন্ত্রনাকে নীরবে মেনে নিয়ে প্রতিদিনের মতো এইদিনেও কাজ করে যান।

ভারতে ‘কালচার মেশিন’ নামক সংস্থা ঘোষনা করেছে, মাসিকের প্রথম দিনটি মেয়েদের জন্যে শারীরিক ভাবে খুবই অস্বস্তিকর ও কাজের জন্যে আদর্শ নয়। তাই তাদের কোম্পানির মহিলা কর্মীদের মাসিক ঋতুস্রাবের প্রথম দিনে সবেতন ছুটি দেওয়ার নীতি চালু করা হবে। এই ঘোষনার পরে তাদের কোম্পানির মহিলা কর্মীরা দারুন উচ্ছসিত এবং তাদের দাবী তাদের কোম্পানী মত সকল সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গুলিও যেন এই নীতি চালু করে।

কালচার মেশিনের হিউম্যান রিসোর্স পেসিডেন্ট দেবলীলা এস মজুমদার বলেন, এই জুলাই থেকেই সংস্থাটি ‘ফার্স্টডে অফ পিরিয়ড'(FOP) নিয়মটি কার্যকর করবেন।

তপন সেনের মতে, এই নিয়ম শিল্পবান্ধব হোক বা নাই হোক এটি মানবিকতার পরিচয়। আর সেজন্যেই এটিকে স্বাগত জানানো উচিত।

তিনি দাবী করেন, সমগ্র ভারতের নারীরা যদি কর্মক্ষেত্রে এই একদিন করে ছুটি পায় তবুও কোন ক্ষতি হবেনা। তারা মাসে একদিন এবং বছরে বারো দিন বাড়তি ছুটি পায় তাহলে কাজের কিবা ক্ষতি হবে? এটি তাদের কোন শারীরিক সমস্যা নয় এটি তাদের একটি পাকৃতিক কারন। তাই সরকারের উচিৎ হবে মাতৃকালীন যেমন ছুটি প্রদান করা হয় ঠিক তেমনি এটিকেও স্বীকৃতি দেওয়া।

সংস্থাটির নারী কর্মীরা নারী ও শিশু কল্যান মন্ত্রী মানেকা গান্ধী ও মানব সম্পদ মন্ত্রী প্রকাশ জাভরেকরের উদ্দেশ্যে পিটিশনও জমা করেছেন। সরকার তাদের এই দাবীকে মেনে নেবেন বলে তারা আশা করছেন।

তথ্যসূত্র- বিবিসি