Friday, May 24, 2024
রাজ্য​

নেতাজির ‘মৃত্যুদিন’ উল্লেখ করে বিতর্কে তৃণমূল চালিত পুরসভা

পূর্ব মেদিনীপুর: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু জীবিত না মৃত তা নিয়েই বিতর্ক চলছে সাত দশক ধরে। আক্ষরিক অর্থে তিনিই বাঙালির নায়ক। আর নায়কের মৃত্যু নেই। অন্তত মননে। তাই ১৯৪৫ এর বিমান দুর্ঘটনায় সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু হয়েছে, যতবার উঠে এসেছে এই তথ্য, ততবারই আবেগ দিয়ে, যুক্তি দিয়ে তা প্রতিহত করেছে বাঙালি। তবে এবার সেই নেতাজির ছবির নীচে মৃত্যুর তারিখ লিখে বিতর্কে জড়াল তৃণমূল পরিচালিত এগরা পুরসভা।

সম্প্রতি পূর্ব মেদিনীপুরের এগরা পুরসভার সন্ধ্যা রায়ের সাংসদ তহবিলের টাকায় একাধিক বাসস্টপে যাত্রী প্রতীক্ষালয় তৈরী করা হয়েছে। সেই সব প্রতীক্ষালয় সাজানো হয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রামী ও মনিষীদের ছবি দিয়ে। ছবিগুলির নীচে মনিষীদের জন্ম ও মৃত্যু তারিখ লেখা রয়েছে। এগরা মহকুমাশাসকের কার্যালয়ের সামনে এগরা-বাজকুল রাজ্য সড়কের উপর যে প্রতীক্ষালয়ের সুভাষচন্দ্রের ছবির নীচে লেখা- জন্ম: ২৩/০১/১৮৯৭, মৃত্যু: ১৮/০৮/১৯৪৫। আর এই থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখান এগরার আজাদ হিন্দ পরিষদের সদস্যরা।

পৌরসভার দায়িত্বজ্ঞানহীনতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার সাধারণ মানুষ। এই ঘটনার পিছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে অভিযোগ করেন এগরার আজাদ হিন্দ পরিষদের সদস্যরা। সূত্রের খবর, ঘটনার জেরে পুরপ্রধান শঙ্কর বেরা দুঃখপ্রকাশ করেন। যে সংস্থাকে এই কাজের টেন্ডার দেওয়া হয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। যদিও ওই সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, ইন্টারনেট ঘেঁটেই সুভাষচন্দ্রের মৃত্যুদিন লিখেছিলেন তারা।

প্রসঙ্গত, নেতাজির অন্তর্ধান রহস্যে আজও কোনও সমাধান হয়নি। নেতাজি গবেষকদের একাংশের দাবি, তাইপেই বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান নেতাজি! আবার অন্য অংশের স্পষ্ট দাবি, কোনও বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যু হয়নি। বরং দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি একসময় দেশে ফিরেও এসেছিলেন। সব মিলিয়ে নেতাজির অন্তর্ধান আজও অমীমাংসিত।