অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লে কোর্টে নয়, সীমান্তে BSF চৌকিতে পাঠিয়ে দেবেন! নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: হাওড়া প্রশাসনিক বৈঠক থেকে বৃহস্পতিবার ফের কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি জানালেন, সিএএ-র আওতার বাইরে থাকা কোনও বাংলাদেশি অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লে তাকে আদালতে পেশ করার প্রয়োজন নেই। সরাসরি সীমান্তে পৌঁছে দিয়ে BSF-এর হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশ এবং আরপিএফ-কে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, পশ্চিমবঙ্গ তথা দেশের অন্যতম ব্যস্ত রেলস্টেশন হাওড়া স্টেশনে বিশেষ নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন লক্ষাধিক যাত্রী যাতায়াত করেন এই স্টেশন দিয়ে। সেই কারণেই অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের উপর জোর দিয়েছেন তিনি। প্রশাসনিক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু বলেন, “পুলিশ কমিশনার এবং আরপিএফ-কে বলে দেওয়া হয়েছে, CAA-র আওতায় না পড়া কোনও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লে তাকে কোর্টে পাঠানো হবে না। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে সরাসরি বনগাঁ-পেট্রাপোল সীমান্ত অথবা বসিরহাটের বিএওপি-তে পৌঁছে দেওয়া হবে।”
রাজ্য প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতি সপ্তাহে কত জন অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়ছেন, তার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট ডিজিপির মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে পাঠানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ গোটা বিষয়টির উপর সরাসরি নজর রাখবে নবান্ন।
উল্লেখ্য, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা CAA অনুযায়ী বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে ভারতে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষদের শরণার্থীর মর্যাদা দেওয়া হয়। কেন্দ্রের গত বছরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতে আসা এই ছয় সম্প্রদায়ের মানুষদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। ২০২৫ সালের ৪ এপ্রিল কার্যকর হওয়া অভিবাসন ও বিদেশি আইনের ৩৩ ধারার ভিত্তিতেই এই নির্দেশিকা জারি করা হয়।
এর আগেই বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, CAA-র অন্তর্ভুক্ত নন এমন অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দিতে হবে। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্র গত বছর এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা পাঠালেও পূর্বতন রাজ্য সরকার তা কার্যকর করেনি। তবে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সেই নির্দেশ কার্যকর করার পদক্ষেপ শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনী প্রচারে বিজেপি বারবার অনুপ্রবেশ ইস্যুকে সামনে এনেছিল। ক্ষমতায় আসার পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দিকেই এগোচ্ছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার।


