Thursday, May 21, 2026
Latestদেশ

পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত পুলওয়ামা হামলার ‘মূলচক্রী’ হামজা বুরহান

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: পাকিস্তানে ফের সক্রিয় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা। ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলায় ৪০ জনেরও বেশি সিআরপিএফ জওয়ান নিহত হয়েছিলেন। সেই অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী হামজা বুরহান পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের হাতে নিহত হয়েছেন। পুলওয়ামার বাসিন্দা হামজা বুরহান, যিনি ‘ডাক্তার’ নামে পরিচিত ছিলেন। ২০২২ সালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করে।

বুরহানের আসল নাম আরজুমান্দ গুলজার দার। মুজাফফারাবাদে অজ্ঞাত হামলাকারীরা একাধিক গুলি চালায়। যারা ধুরন্ধর দেখেছেন, তাদের কাছে এই মুহূর্তটি অদ্ভুতভাবে পরিচিত মনে হচ্ছে। বস্তুত, গত কয়েক বছরে পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে বেশ কয়েকজন চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে নিকেশ করা হয়েছে।

হামজা বুরহান কে?

পুলওয়ামার রত্নীপোরা এলাকার খারবাতপোরায় জন্মগ্রহণকারী বুরহান উচ্চশিক্ষার জন্য ২০১৭ সালে পাকিস্তানে চলে যান। তবে, তিনি নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন আল-বদরে যোগ দেন এবং শীঘ্রই সংগঠনটিতে কমান্ডার পদে উন্নীত হন।

পরে তিনি কাশ্মীরে ফিরে আসেন এবং যুবকদের উগ্রপন্থী করে তোলা ও তাদের মগজধোলাই করার কাজে জড়িত হন। দক্ষিণ কাশ্মীরে বুরহান পুলওয়ামা থেকে শোপিয়ান পর্যন্ত তার নেটওয়ার্ক বিস্তার করেন।

রিপোর্ট অনুযায়ী, পুলওয়ামা জুড়ে বিভিন্ন পরিবার বর্ণনা করেছে যে, কীভাবে বুরহানের সংস্পর্শে আসা যুবকরা ধীরে ধীরে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়েছিল।

২০১৯ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারির পুলওয়ামা হামলাসহ জম্মু ও কাশ্মীরের বেশ কয়েকটি সন্ত্রাস-সম্পর্কিত কার্যকলাপের সঙ্গে বুরহানের যোগসূত্র রয়েছে।

নিরাপত্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, পুলওয়ামা হামলাকারী সন্ত্রাসীদের বুরহান বিস্ফোরক ও গ্রেনেড সরবরাহ করেছিল। ২০২০ সালের ১৮ নভেম্বর সিআরপিএফ কর্মীদের ওপর গ্রেনেড হামলায়ও তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

বুরহানের খোঁজে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করা হয়েছিল, কিন্তু সে কোনোভাবে পোকে ফিরে যেতে সক্ষম হয়। অবশেষে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে খতম হলো সে।

রহস্যময় মৃত্যুর ধারাবাহিকতা

লস্কর-ই-তৈবা (এলইটি), জেইএম এবং হিজবুল মুজাহিদিনের মতো গোষ্ঠীগুলোর সন্ত্রাসী ও শীর্ষ কমান্ডারদের লক্ষ্য করে চালানো ধারাবাহিক রহস্যময় হামলার প্রেক্ষাপটে বুরহানের হত্যাকাণ্ডটি ঘটল।

স্থানীয় প্রতিবেদনগুলোতে প্রায়শই এই ঘটনাগুলোর জন্য ‘অজ্ঞাত বন্দুকধারী’ বা রহস্যজনক মৃত্যু বলে দাবি করা হয়েছে।

কয়েকদিন আগে, লস্কর-ই-তৈয়বার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আমির হামজা লাহোরে অজ্ঞাতপরিচয় বাইকে আসা বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হন। মার্চ মাসে, জইশ-ই-মুহাম্মদ প্রধান মাসুদ আজহারের বড় ভাই মুহাম্মদ তাহির আনোয়ার পাকিস্তানে ‘রহস্যজনক পরিস্থিতিতে’ মারা যান।

এক বছর আগে, লস্কর-ই-তৈয়বার শীর্ষ সন্ত্রাসী আবু কাতাল পাকিস্তানের ঝিলাম সিন্ধে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হন। ২৬/১১ মুম্বাই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হাফিজ সাঈদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী কাতাল ২০২৪ সালের রিয়াসি হামলায় জড়িত ছিলেন, যে হামলায় নয়জন নিহত হয়েছিল।

২০২৩ সাল থেকে এই ধরনের হত্যাকাণ্ডের ধরনটি লক্ষ্য করা শুরু হয়, যখন ৭ মাসের ব্যবধানে অন্তত ৭ জন সন্ত্রাসীকে সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে নির্মূল করা হয়েছিল। এ তো ধুরন্ধর সিনেমার মতোই!