ভিত্তিহীন মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে তৃণমূল, মাছ-ভাত খেয়ে মমতাকে বিঁধলেন বিজেপির অনুরাগ ঠাকুর
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ময়দানে এবার এক অদ্ভুত ইস্যু—‘মাছ’। বাঙালির চিরাচরিত ‘মাছ-ভাত’-এর জীবনযাপনকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধীর মধ্যে তুমুল রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।
তৃণমূলের দাবি, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাঙালির খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপ হতে পারে, বিশেষ করে মাছ খাওয়া বন্ধ করে দিতে পারে। অন্যদিকে বিজেপি এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ফলে ভোটের প্রচারে এখন মাছ শুধুই খাবার নয়, রাজনৈতিক প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
বিজেপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ খণ্ডন করতে সরাসরি মাঠে নামেন দলের নেতা অনুরাগ ঠাকুর। পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে নিউটাউনের একটি হোটেলে তিনি ভাতের সঙ্গে রুই মাছ খেয়ে বার্তা দেন, বিজেপি খাদ্যাভ্যাসে কোনও হস্তক্ষেপ করে না। তিনি বলেন, ‘দেশে ১৬টি রাজ্যে বিজেপির সরকার, ২০টি রাজ্যে NDA সরকার রয়েছে, সেখানে কারও খাদ্যাভ্যাস, বাকস্বাধীনতা বা ধর্মাচরণে কোনও বিধিনিষেধ নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের গত ১৫ বছরে সাফল্যের ঝুলিতে কিছু নেই। তাই বিভ্রান্তি ছড়ানোই এখন তৃণমূলের প্রধান কৌশল।’
এর আগেই একই সুর শোনা যায় বিজেপির আরেক শীর্ষ নেত্রী স্মৃতি ইরানির গলায়। পয়লা বৈশাখে রাজ্যে এসে তিনি কৌতুকের সুরে বলেন, “ইলিশ মাছ নিয়ে আসুন, আমি বেছে খাইয়ে দিচ্ছি আপনাকে।” তৃণমূলের অভিযোগের জবাবে তাঁর এই মন্তব্য স্পষ্ট বার্তা দেয়, খাদ্যাভ্যাস নিয়ে রাজনীতিকে বিজেপি গুরুত্ব দিতে চাইছে না, বরং তা নিয়ে ব্যঙ্গ করেই পাল্টা আক্রমণ শানাচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘মাছ’ ইস্যুটি আসলে বৃহত্তর সাংস্কৃতিক পরিচয়ের লড়াইয়ের অংশ। বাঙালির খাদ্যাভ্যাসকে কেন্দ্র করে আবেগ তৈরি করে ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব ফেলাই এখানে মূল লক্ষ্য। “ঘোলাজলে মাছ ধরা”—এই প্রবাদ যেমন রাজনৈতিক ব্যঙ্গার্থে ব্যবহৃত হয়, তেমনই বাস্তবেও এখন সেই মাছই হয়ে উঠেছে ভোট টানার হাতিয়ার।
সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী রাজনীতিতে এবার মাছ শুধু পাতে নয়, প্রচারের মঞ্চেও সমানভাবে উপস্থিত। কে এই ইস্যুতে কতটা সুবিধা পায়, তা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে ভোটারের মনোভাবের ওপরই।


