Thursday, April 25, 2024
দেশ

বাড়িতে শৌচাগার না থাকায় শ্বশুরকে থানায় নিয়ে গেলেন বৌমা

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: শ্বশুরবাড়িতে অনেকগুলো ঘর থাকলেও একটাও শৌচাগার নেই। প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাধ্য হয়ে বধূটিকে প্রতিদিন খুঁজতে হয় বাড়ির আশাপাশের ঝোপঝাড়। পরিবারের অন্য সকলকেও প্রাকৃতিক কাজ সারতে মাঠে যেতে হতো। এতে তিনি চূড়ান্ত অপমানিত বোধ করছিলেন। ফাঁকা স্থানে শৌচকর্ম করতে আত্মমর্যাদায় বিঁধছিল তাঁর। আর সইতে না পেরে এবার তিনি থানায় টেনে নিয়ে গেলেন শ্বশুরকে। পুলিশের সামনে শ্বশুরমশাইকে দিয়ে বাড়িতে শৌচাগার নির্মাণের জন্য বন্ডে সই করিয়ে তবেই মুক্তি দিলেন।

ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের মুজাফফরপুর জেলার মীনাপুর ব্লকের ছেজ্ঞননেউরা গ্রামে। মুজফফরপুরের নারী পুলিশ স্টেশনের অফিসার ইন চার্জ জানিয়েছেন, শ্বশুরবাড়িতে শৌচাগার না থাকায় ২৫ তারিখ ওই নারী শ্বশুর ও ভাসুরের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

ওই গৃহবধূ জানিয়েছেন, বাড়িতে শৌচাগার নির্মাণের জন্য তিনি বারবার শ্বশুর ও ভাসুরের কাছে অনুরোধ করেও কোনো ফল পাননি। তাঁর অনুরোধে কেউই কর্ণপাত করেননি। ফলে ঝোপঝাড়ে প্রাকৃতিক কাজ সারার ভয়ে বছরের বেশির ভাগ সময়ই বাবার বাড়িতে কাটাতে বাধ্য হন ওই গৃহবধূ।

ওই গৃহবধূ আরও জানিয়েছেন, তামিলনাড়ুতে কর্মরত তাঁর স্বামী যখন নয় মাসে কিংবা ছমাসে বাড়ি ফেরেন, তখনই শুধু শ্বশুরবাড়ি ফেরা হয় তাঁর। স্বামী ফিরে গেলে ফিরে যান তিনিও। দিনের পর দিন ধরে এই সমস্যা চলতে থাকায় বাধ্য হয়ে শেষ পর্যন্ত শ্বশুর ও ভাসুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে পুলিশের দ্বারস্থ হন তিনি।

ওই গৃহবধূর লিখিত অভিযোগের পর গত ২৬ সেপ্টেম্বর পুলিশ অভিযুক্ত শ্বশুর ও ভাসুরকে থানায় ডেকে পাঠায়। সেখানে গৃহবধূর চাপের মুখে পুলিশের কাছে শ্বশুরমশাই বন্ড সই করেন এবং জানান, শীঘ্রই তিনি বাড়িতে শৌচাগার নির্মাণ করবেন। পুলিশ অবশ্য এক সপ্তাহের মধ্যে শৌচাগার নির্মাণের নির্দেশ দিলেও শ্বশুর আবেদন জানিয়ে বলেন, টাকা জোগাড় করতে আরও কিছুদিন তার সময়ের প্রয়োজন। এরপর অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন পুত্রবধূ।