Monday, May 20, 2024
আন্তর্জাতিক

ঢাকার চকবাজারের আগুন নিয়ন্ত্রনে, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮

ঢাকা: বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার পুরনো অংশের চকবাজারের আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও মৃতের সংখ্যা বাড়ছেই। মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে ৭৮ জন। আগুনে দগ্ধ ও আহত হয়েছেন পথচারীসহ অর্ধ শতাধিক। পুলিশ মহাপরিদর্শক জাভেদ পাটোয়ারি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেছেন ৭৮ জনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে এবং আরও মৃতদেহ থাকতে পারে। জাভেদ পাটোয়ারি বলেন, কেমিক্যাল গোডাউন আশেপাশে। কেমিক্যাল আগুন হওয়াতে আগুন ছড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিলো। অনেক গাড়ি ছিলো গ্যাস সিলিন্ডিারের। এসব কারণে আগুন ছড়িয়েছে। এছাড়া রাস্তা সরু ও আশেপাশে জলের কোনও উৎস নেই। ৩৯/৪০ টি ইউনিট কাজ করেছে ফায়ার সার্ভিসের।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, আমরা এ পর্যন্ত আমাদের মর্গে (মেডিকেল কলেজ মর্গ) ৬৭টা মৃতদেহ পেয়েছি। আরও ১১টা মৃতদেহ আমাদের হাসপাতালে মর্গে আছে। মোট ৭৮টা মৃতদেহ। ৭৮টা মৃতদেহও মধ্যে কিছু কিছু মৃতদেহ আছে তাদের চেহারা দেখে শনাক্ত করা যাবে। কিছু কিছু মৃতদেহ আছে তাঁদের ফিঙ্গার প্রিন্ট লাগবে, ফিঙ্গার প্রিন্ট দিয়ে শনাক্ত করা যাবে। কিছু কিছু লাশ আছে চেহারা এবং ফিঙ্গার প্রিন্ট দিয়ে শনাক্ত করা যাবে না, তাঁদের আমরা ডিএনএ প্রফাইলিংয়ের মাধ্যমে শনাক্ত করব।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পুরান ঢাকায় নন্দকুমার সড়কের চুড়িহাট্টায় বুধবার রাতে দিকে শাহী মসজিদের সামনে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির ট্রান্সফরমার বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এর পরই পাশের খুঁটির আরও দুটি ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণের শব্দ তারা শুনেছেন। তারা বলেন, মুহূর্তেই আগুন লাগে জামাল কমিউনিটি সেন্টারে। আগুনের ভয়াবহতা এত বেশি ছিল যে সে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের চারতলা ওয়াহিদ ম্যানশনে। ভবনটির প্রথম দুইতলায় প্রসাধন সামগ্রী, প্লাস্টিকের দানা ও রাসায়নিক দাহ্য পদার্থের গুদাম থাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের আরো চারটি ভবনে। পাশের কয়েকটি খাবারের হোটেলের গ্যাস সিলিন্ডারেরও বিস্ফোরণ ঘটে। পুড়ে যায় সড়কে থাকা একটি প্রাইভেট কারসহ কয়েকটি যানবাহন।

প্রায় পাঁচ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস। রাজধানী ঢাকার প্রায় সবকটা ইউনিট কাজ করে আগুন নেভাতে। খুবই ঘন বসতি এবং রাস্তা সরু হওয়ায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয় ফায়ার সার্ভিসকে। ফায়ার সার্ভিসের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১২ সালের পর থেকে বাংলাদেশে ৮৮ হাজার অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ২৯ হাজার কোটি টাকারও বেশি। প্রাণহানি হয়েছে ১৪০০ জন, আহত হয়েছে অন্তত ৫০০০ মানুষ।