বন্দুক ফেলে হাতে তুলে নিলেন বই-খাতা-কলম, স্কুলে ফিরলেন গড়চিরোলির ১০৬ মাওবাদী
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: মহারাষ্ট্র সরকার চালু করেছে এক অভিনব উদ্যোগ ‘প্রজেক্ট সঞ্জীবনী’, যার লক্ষ্য আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের পুনরায় সামাজিক ও শিক্ষাজীবনে ফিরিয়ে আনা। শৈশবে বই খাতার বদলে তাঁদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছিল, তাঁরা এবার ফিরছেন সমাজের মূলস্রোতে। ১০৬ জন মধ্যবয়সী প্রৌঢ় মাওবাদী এবার বই-কলম নিয়ে স্কুলমুখী হলেন। এদের অধিকাংশের বয়স ৪৮ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে। এখন তাঁরা স্বপ্ন দেখছেন নতুন জীবন গড়ার।
বনিতা জুরে ওরফে ঘিটসো – যিনি মাওবাদী কার্যকলাপে যুক্ত ছিলেন ১৯৯৩ সালের ২২ মার্চ থেকে – সম্প্রতি আত্মসমর্পণ করেছেন। বনিতার মতো অনেকে জীবনের অনেক বড় অংশ কাটিয়েছেন জঙ্গলে। ৩ ফেব্রুয়ারি আত্মসমর্পণের পর বনিতা বললেন, “এ তো আমার কাছে নতুন জগৎ। সব কিছু কেমন বিস্ময়ের।” এই মুহূর্তে তার হাতে বই, খাতা, কলম। সে নিজেই অদ্ভুত মনে করছেন নতুন এই অধ্যায়।
মহারাষ্ট্র সরকার এই উদ্যোগের আওতায় ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিশেষ সাক্ষরতা অভিযান পরিচালনা করছে। তার পরেই আত্মসমর্পণকারীরা পঞ্চম শ্রেণির প্রবেশিকা পরীক্ষায় অংশ নিবেন। লক্ষ্য আগামী মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে সকলকে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করে ফেলা। তাদের জন্য ব্ল্যাকবোর্ড, চক-ডাস্টার, খাতা-পেনসিলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কারও শিক্ষাজীবন প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণির পরেই থেমে গিয়েছিল। কেউ ছিলেন নিরক্ষর।
মধ্যবয়সি গিরিধর তুমরেটি ওরফে নাংসু বলেন, “পঞ্চম শ্রেণির পরীক্ষায় পাশ করতে পারিনি। পড়াশোনায় ইতি হয়েছিল। কিন্তু এ বার আর ছাড়ছি না। পড়াশোনা করে চাকরি করার স্বপ্ন দেখছি।” তার স্ত্রী সঙ্গীতা ওরফে জানকী, যিনি মাওবাদী সংগঠনে যুক্ত হয়েছিলেন ২০০২ সালে। ২০২৪ সালের জুনে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। সঙ্গীতা বলেন, “স্কুল ছেড়ে মাওবাদী দলে যোগ দিয়েছিলাম… আবার ক্লাসরুমে ফিরলাম।” তার লক্ষ্য হাতের কাজ শিখে স্বনির্ভর হওয়া। প্রশাসনের পরিকল্পনায় প্রাথমিক শিক্ষার পর তাকে সেলাই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
মহারাষ্ট্র প্রশাসন মনে করছে, এই ১০৬ জনের শিক্ষাজীবনে ফিরিয়ে আনা হল সবচেয়ে বড় সাফল্য। কারণ শুধুমাত্র আত্মসমর্পণ নয়, তাদেরকে আবার সমাজের কার্যকর সদস্য হিসেবে গড়ে তোলা সরকারী পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য।
বনিতা, গিরিধর, সঙ্গীতা সহ সকলেই এই নতুন যাত্রায় আত্মবিশ্বাসী। প্রত্যেকেরই একটাই আকাঙ্ক্ষা – শিক্ষার আলোয় নতুন করে জীবন গড়া।


