তীব্র জ্বালানি সংকটে বাংলাদেশ, ভারত থেকে গেল ৫০০০ মেট্রিক টন ডিজেল
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: জ্বালানি ঘাটতিতে চাপে পড়েছে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার সাহায্যের হাত বাড়াল ভারত। ১০ মার্চ ভারতের তরফে প্রায় ৫,০০০ মেট্রিক টন ডিজেল বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা চুক্তির আওতাতেই এই সরবরাহ করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য, ৮ মার্চ ঢাকায় বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। সেই বৈঠকেই দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয় বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে। এর দু’দিন পরেই, অর্থাৎ ১০ মার্চ ভারতের তরফে বাংলাদেশে ডিজেল পাঠানো হয়, যা বর্তমান জ্বালানি সংকট সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে।
সূত্র অনুযায়ী, অসমের নুমালীগড় রিফাইনারি থেকে এই ডিজেল পাঠানো হয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর ডিপোতে পৌঁছচ্ছে এই জ্বালানি। প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন ভারতের অসম থেকে শুরু হয়ে বাংলাদেশের পার্বতীপুর পর্যন্ত বিস্তৃত। এই পাইপলাইন চালু হওয়ার ফলে দুই দেশের মধ্যে ডিজেল পরিবহন অনেকটাই দ্রুত ও সাশ্রয়ী হয়েছে।
জানা গিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের অস্থিরতা এবং সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ তাদের মোট জ্বালানির বড় অংশই বিদেশ থেকে আমদানি করে থাকে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সামান্য ওঠানামার প্রভাবও সরাসরি পড়ে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায়।
এই পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পেট্রোল পাম্পে ডিজেলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার খবর সামনে এসেছে। কোথাও কোথাও দীর্ঘ লাইনও দেখা গিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ সরকার বিকল্প উৎস থেকেও জ্বালানি আমদানির চেষ্টা চালাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের তরফে পাঠানো এই অতিরিক্ত ডিজেল আপাতত বাংলাদেশের পরিবহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে কিছুটা স্বস্তি আনতে পারে। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা আরও মজবুত হওয়ার ইঙ্গিতও মিলছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নুমালীগড় রিফাইনারি থেকে নিয়মিতভাবে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করা হয়। প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও বাংলাদেশকে অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহ করা হতে পারে বলেই কূটনৈতিক মহলের ধারণা।


