Friday, April 12, 2024
দেশ

দিল্লি জামে মসজিদের গম্বুজে ফাটল

নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক জামে মসজিদের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। ৩৬১ বছরের পুরনো এই মসজিদটির বিভিন্ন জায়গায় থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা। কেন্দ্রীয় গম্বুজেও ধরেছে ফাটল।

শাহী ইমাম সৈয়দ আহমদ বুখারি বলেন, মসজিদের স্ট্রাকচার জলদি মেরামত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। নষ্ট পানিতে কেন্দ্রীয় গম্বুজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মসজিদের দেয়াল ও নকশাও দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, মসজিদের এই করুণ দশা জানিয়ে গত বছর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে, আরকোলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়াও কয়েকবার সংস্কারের জন্য আবেদন জানিয়েছে। তারা বলছে, মসজিদের অবস্থা দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে।

ইমাম বুখারি বলেন, ‘রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মসজিদ স্থাপনার স্বতন্ত্র ক্ষতি হচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রী ও আইএসআইকে সতর্ক করেছেন। বিশেষ করে নামাজিদের জন্য কেন্দ্রীয় হল এবং তিন গম্বুজ শিগগিরই সংস্কার করা প্রয়োজন।’

তার ভাষ্যে, মসজিদের হলের কেন্দ্রীয় গম্বুজ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত। নষ্ট পানির দাগ স্পষ্টভাবে এর গায়ে ফুটে উঠেছে। আর বৃষ্টির পানিতে দেয়ালের সংযোগ, মিনার ও ছোট গম্বুজগুলোতেও ছাপ পড়ে গেছে।

আরকোলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার মুখপাত্র ডিএম ডামরি বলেন, মসজিদের মেঝে ও অন্যান্য কাজ পাইপলাইনে আছে। এতদিন তারা মসজিদের গম্বুজের ক্ষতি বিষয়ে অবগত ছিলেন না।

দিল্লি ওয়াকফ বোর্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, মসজিদের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে বোর্ডের দায়িত্ব রয়েছে। কিন্তু, আমাদের কাছে প্রয়োজনীয় ফান্ড নেই। এজন্য সব সময় বাইরের সাহায্য প্রয়োজন।ইমাম বুখারি বলেন, সর্বশেষ মসজিদের সজ্জা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ হয়েছিল ১০ বছর আগে। তখনো আরকোলজিক্যাল সার্ভে এজন্য আবেদন করেছিল।

উল্লেখ্য, দিল্লি জামে মসজিদের আসল নাম ‘মসজিদে জাহানুমা’। মোঘল বাদশা শাহজাহান ১৬৪৮ খ্রিস্টাব্দে জাহানাবাদ শহর নির্মাণ সম্পন্ন করার পর এ মসজিদের নির্মাণ শুরু করেন। নির্মাণ শেষ হতে ছয় বছর লাগে এবং তৎকালীন ১০ লাখ রুপি ব্যয় হয়। মসজিদে দৈনিক এক হাজার নামাজি ইবাদত করেন। প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় পাঁচ হাজার পর্যটক মসজিদটি পরিদর্শনে আসেন।