Monday, April 20, 2026
Latestরাজ্য​

এবার আইপ্যাকের ডিরেক্টর ঋষিরাজ সিংকে তলব ইডির

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: নির্বাচনের উত্তাপে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এল ভোটকুশলী সংস্থা Indian Political Action Committee (IPAC)। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা Enforcement Directorate (ED)-এর তৎপরতা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর, যা শুধুমাত্র আইনি পরিসরেই সীমাবদ্ধ নয়—বরং ভোটের ময়দানে তা মনস্তাত্ত্বিক লড়াই হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

সোমবার আই-প্যাকের অন্যতম ডিরেক্টর ঋষিরাজ সিংকে দিল্লিতে তলব করে ইডি। এর আগে সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ চান্দেলের গ্রেপ্তারির পর এই তলবকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। জানা গিয়েছে, দিল্লি পুলিশের একটি পুরনো মামলার সূত্র ধরেই অর্থ পাচার বিরোধী আইন (PMLA)-এর আওতায় তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে এই তদন্তের সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলার নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক সমীকরণে।

এর আগেই কয়লাকাণ্ড ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে আই-প্যাকের কলকাতা দপ্তর এবং প্রতীকের জৈনের বাসভবনে অভিযান চালায় তদন্তকারী সংস্থা। সেই ঘটনার পর থেকেই চাপে রয়েছে সংস্থার শীর্ষ নেতৃত্ব। এই পরিস্থিতিতে আই-প্যাক কর্মীদের ২০ দিনের ছুটিতে পাঠানোর জল্পনা ছড়ায়। যদিও এই নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও সংকট স্বীকার করেনি সংস্থাটি।

অন্যদিকে, শাসকদল তৃণমূল পুরো ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, ভোটের মুখে কেন্দ্র সরকার ইডি-সহ কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে নির্বাচনী কৌশলকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। যদিও আই-প্যাকের কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে—এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। তাদের মতে, কাজের ধরণে কিছু পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু সংগঠন এখনও সক্রিয়।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ঘটনাপ্রবাহ কেবল আইনি তদন্তের সীমায় আটকে নেই। বরং তা নির্বাচনের আগে ভোটকৌশল, প্রচার এবং জনমত গঠনের ওপর বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে। একইসঙ্গে তৃণমূলও নিজেদের সংগঠনকে আরও সক্রিয় করে মাঠে নামানোর চেষ্টা করছে, যাতে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করা যায়।

সব মিলিয়ে, আই-প্যাককে ঘিরে ইডির তৎপরতা বাংলার নির্বাচনী রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে—যেখানে আইনি পদক্ষেপ, রাজনৈতিক কৌশল এবং মনস্তাত্ত্বিক লড়াই একসূত্রে গাঁথা হয়ে উঠছে।