রাসবিহারীর তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারের বাড়িতে আয়কর হানা, কেন্দ্রকে তোপ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের বিদায়ী বিধায়ক তথা রাসবিহারীর তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারের (Debashis Kumar) বাড়িতে আয়কর দফতরের হানা ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। নির্বাচনী জনসভা থেকে সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকার এবং তদন্তকারী সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপের অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে বিরোধী দলগুলিকে চাপে রাখতে কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলিকে ব্যবহার করছে। জনসভা থেকে তিনি বলেন, “যারা সত্যিই কালো টাকার সঙ্গে যুক্ত, তারা ধরা পড়ছে না। অথচ তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিসে হানা দেওয়া হচ্ছে, প্রার্থীদের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এমনকি আমার চলাচলও নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে। এভাবে ভয় দেখিয়ে লাভ হবে না, মানুষ সব বুঝছে।”
মঙ্গলবার কলকাতার মনোহরপুকুর রোডে অবস্থিত দেবাশিস কুমারের বাড়িতে পৌঁছন আয়কর বিভাগের আধিকারিকরা। শুরু হয় দীর্ঘ তল্লাশি অভিযান। তাঁর বাসভবনের পাশাপাশি অফিস এবং ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয় বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, তদন্তকারীরা গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখছেন।
উল্লেখ্য, এই হানার আগে থেকেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নজরে ছিলেন দেবাশিস কুমার। কয়েকদিন আগেই তাঁকে তলব করেছিল Enforcement Directorate (ইডি)। গত ১, ৩ এবং ৯ এপ্রিল সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয় এবং তিনি সেখানে হাজিরা দেন। তদন্তকারী সূত্রে জানা যায়, একাধিক ব্যবসায়িক সংস্থার সঙ্গে তাঁর আর্থিক লেনদেন এবং জমি সংক্রান্ত অভিযোগের সূত্রেই তাঁর নাম উঠে আসে।
অভিযোগ, বেআইনি জমি দখল এবং সেই জমির মালিকানা বৈধ করার ক্ষেত্রে এক ব্যবসায়ীকে সহায়তা করেছিলেন দেবাশিস কুমার। এই নিয়ে ইতিমধ্যেই ১৬ থেকে ১৭টি এফআইআর দায়ের হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত এগোচ্ছে বলে দাবি কেন্দ্রীয় সংস্থার।
অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস সরব হয়েছে। দলের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নির্বাচনের আগে বিরোধী নেতাদের ভয় দেখাতে এবং রাজনৈতিকভাবে চাপে রাখতে এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তাদের দাবি, এটি সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার উদাহরণ।
যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য, তদন্তকারী সংস্থাগুলি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করছে এবং আইন মেনেই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে যে কারও বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া স্বাভাবিক বলেই দাবি তাদের।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যে নির্বাচনের আবহে এই ধরনের ঘটনা রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে তুলবে। শাসক ও বিরোধী—উভয় পক্ষই এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে জনমত গঠনের চেষ্টা চালাবে। ফলে আগামী দিনে এই বিতর্ক আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।


