Friday, April 17, 2026
Latestদেশ

নাসিক টিসিএসে যৌন হেনস্থা ও ধর্মান্তরকরণ চক্র! গ্রেফতার একাধিক, বিস্ফোরক অভিযোগ

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের নাসিকে অবস্থিত টিসিএসের একটি অফিসকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। যৌন হেনস্থা, মানসিক নির্যাতন, ব্ল্যাকমেল এবং ধর্মান্তরকরণের মতো গুরুতর অভিযোগে ইতিমধ্যেই একাধিক কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই বেরিয়ে আসছে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য।

এরই মধ্যে সামনে এসেছে সেই অফিসের এক প্রাক্তন নারী কর্মীর অভিযোগ, যা নতুন করে নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা বিষয়টিকে। তিনি NDTV-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, ওই অফিসে কাজের পরিবেশ দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত ‘টক্সিক’ ছিল এবং উচ্চপদস্থ কিছু কর্মী নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে নারী সহকর্মীদের উপর চাপ সৃষ্টি করত।

প্রাক্তন কর্মীর অভিযোগ অনুযায়ী, টিম লিডারদের ডেস্ক ছিল কার্যত শোষণের কেন্দ্র। কাজের অজুহাতে মহিলা কর্মীদের বারবার সেখানে ডাকা হত এবং সেই সময় অশ্লীল ও কুরুচিকর ভাষা ব্যবহার করা হত। এমনকি অফিসের ভিতরে একটি ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল, যাতে কেউ সহজে প্রতিবাদ করার সাহস না পায়।

তিনি আরও জানান, ধর্মীয় বিষয় নিয়েও কটূক্তি করা হত। বিশেষ করে হিন্দু উৎসবের সময় কোনও মহিলা শাড়ি বা টিপ পরে এলে তাঁদের উদ্দেশ্যে আপত্তিকর মন্তব্য করা হত। এতে কর্মীদের মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা হত বলেও অভিযোগ তাঁর।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলির মধ্যে রয়েছে জোর করে ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি এবং যৌন শোষণের চেষ্টা। ওই প্রাক্তন কর্মীর দাবি, দানিশ ও রাজা নামে দুই অভিযুক্ত নিয়মিত সপ্তাহান্তে হোটেল ও রিসর্টে ঘর বুক করত এবং নারী কর্মীদের সেখানে যেতে বাধ্য করত। অস্বীকার করলে চাকরি খোয়ানোর ভয় দেখানো হত বা অন্যভাবে চাপ সৃষ্টি করা হত।

শুধু তাই নয়, অভিযোগ উঠেছে একটি সংগঠিত ‘গ্রুমিং’ প্রক্রিয়ারও। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা প্রথমে টার্গেট করত কম বয়সী কর্মীদের—বিশেষ করে যাঁরা ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলে ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা হত। এরপর সেই তথ্য ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেল, ভয় দেখানো বা প্রেমের ফাঁদে ফেলার মাধ্যমে তাঁদের নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হত।

এই ঘটনার সঙ্গে ধর্মান্তরকরণের অভিযোগও জড়িয়ে রয়েছে। অভিযোগ, মানসিকভাবে দুর্বল করে ফেলার পর ওই কর্মীদের উপর ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হত। তাঁদের ধর্মীয় অনুভূতিতেও আঘাত করা হত বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক মহিলা।

উল্লেখ্য, এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন আসিফ আনসারি, শফি শেখ, শাহরুখ কুরেশি, রাজা মেমন, তৌসিফ আত্তার এবং অশ্বিন চাইনানি। তাঁদের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি, ধর্ষণ, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং জোর করে ধর্মান্তরের চেষ্টার মতো একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সি একাধিক মহিলা কর্মী এই ঘটনার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, গত দুই থেকে তিন বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে এই নির্যাতন চলছিল। অনেকেই ভয় ও সামাজিক চাপে এতদিন মুখ খুলতে পারেননি।

এই ঘটনায় Tata Consultancy Services (টিসিএস)-এর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের সুরক্ষা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। যদিও সংস্থার তরফে এখনও বিস্তারিত কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি, তবে কর্পোরেট মহলে বিষয়টি নিয়ে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ঘটনা কর্পোরেট সেক্টরে ‘পাওয়ার ডায়নামিক্স’-এর অপব্যবহারের একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ এবং স্বচ্ছ তদন্তের দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।

বর্তমানে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং সূত্রের খবর, এই মামলায় আরও নতুন তথ্য ও নাম সামনে আসতে পারে। গোটা দেশের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পেও এই ঘটনা গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।