Monday, May 27, 2024
দেশ

৯৮ বছর বয়সে স্নাতকোত্তর

পাটনা, ২৭ ডিসেম্বর: পাটনার অধিবাসী রাজ কুমার বৈশ্যের বয়স ৯৮ বছর। নালন্দা ওপেন ইউনিভার্সিটির এমএ পরীক্ষার্থীদের তালিকায় এই প্রবীণের নাম দেখে হতবাক হয়েছিলেন সেখানকার অনেকেই। সবাইকে আরও বেশি হতবাক করে গৌরবের সঙ্গে অর্থনীতিতে সেকেন্ড ডিভিশন নিয়ে এমএ পাস করে দেখিয়েছেন এই বৃদ্ধ।

রাজ কুমার বৈশ্যের এ গৌরবময় অর্জনের পাশাপাশি এবছর লিমকা বুক অব রেকর্ড তাকে সবচেয়ে বেশি বয়সে স্নাতকোত্তর পরীক্ষার্থীর স্বীকৃতি দেয়।

৯৮ বছর বয়সী রাজ কুমার প্রমাণ করেছেন ইচ্ছা থাকলেই উপায় হয়। স্বপ্ন দেখার কোনও বয়স আছে নাকি? দেখার ইচ্ছে থাকলেই দেখা যায়। আবার তা পূরণও করা যায়। হোক না বয়স একশোর কাছাকাছি। এই বয়সেও পাওয়া যায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি। নাহ, সাম্মানিক ডিগ্রি নয়। বরং রীতিমতো খেটে পড়াশোনা করে পরীক্ষা দিয়ে পাশ করে পাওয়া ডিগ্রি।

নালন্দা মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানুয়াল কনভোকেশন অনুষ্ঠানে এই ডিগ্রি তুলে দেওয়া হয় রাজকুমারের হাতে। বয়সের ছাপ শরীরে পড়েছে। ভালো করে হাঁটতে পারেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে তার জন্য হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু তা নিতে অস্বীকার করেন ৯৮ বছরের বৃদ্ধ। ওয়াকারের সাহায্য নিয়ে নিজে হেঁটে মঞ্চে যান। সার্টিফিকেট নেন মেঘালয়ের রাজ্যপাল গঙ্গা প্রসাদের হাত থেকে। তুবড়ে যাওয়া গালেও ছিল তৃপ্তির হাসি। স্বপ্ন পূরণের হাসি।

সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমি আমার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। এখন আমি একজন পোস্টগ্রাজুয়েট। মানুষের স্বপ্ন পূরণে কোনো কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। কথাটি প্রমাণ করার জন্যেই আমি দু’বছর আগে স্নাতকোত্তর পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম এবং আমি তা প্রমাণ করেছি।

রাজ কুমার মনে করেন, পরাজয়ের ফলে কোনো অবস্থাতেই আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলা উচিত নয়। নিজের উপর বিশ্বাস রাখলে সাফল্য আসবেই।

এ বয়সে অন্য ছাত্রদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া সহজ কাজ ছিল না রাজ কুমারের জন্য। নালন্দা ওপেন ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ জানায়, পরীক্ষা চলাকালে টানা তিন ঘণ্টা তিনি লিখে যান। আশপাশের সবাই রাজকুমারের নাতি-নাতনির বয়সী। সেতুলনায় খুবই সাবলীলভাবেই তিনি পরীক্ষা দিয়ে গেছেন। প্রতিটি পরীক্ষায় তিনি প্রায় দুই ডজন পৃষ্ঠাও ব্যবহার করেছেন।

১৯২০ সালের ১লা এপ্রিল উত্তর প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন রাজ কুমার বৈশ্য। স্নাতকোত্তর পড়ার ইচ্ছা থাকলেও সংসারের দায়িত্ব কাঁধে চেপে যাওয়ায় ঢুকে পড়তে হয়েছিল কাজের দুনিয়ায়। তিন যুগেরও বেশি সময় চাকরির পর অবসরও নেন তিনি।

১২ বছর আগে স্ত্রী বিয়োগের পর পুত্র সন্তোষ কুমারের সঙ্গে পাটনায় থাকতে শুরু করেন। তখনই সেই পুরনো স্বপ্নটা আবার জেগে ওঠে তার মনে। ২০১৫ সালে তিনি স্নাতকোত্তর কোর্সের জন্য ভর্তি হন।

এই প্রবীণ বয়সেও চশমা ছাড়াই সবকিছু পরিষ্কার দেখেন রাজ কুমার। নিজ হাতে ইংরেজি ও হিন্দি লিখতেও পারেন সাবলীলভাবে। নিরামিষাশী রাজ কুমার কখনই ভাজাপোড়া খান না। বয়সের অজুহাতে যারা নিজের স্বপ্নকে দূরে ঠেলে দিতে চান তাদের জন্য এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা রাজ কুমার বৈশ্য।