Sunday, April 21, 2024
দেশ

হাওড়ায় ৩ দিন ধরে মৃত বোনের দেহ আগলে দাদা

হাওড়া: ৩ দিন ধরে মৃত বোনের দেহ আগলে রইলেন চিকিৎসক দাদা এবং আরেক বোন! মৃতের নাম করবী ধারা, বয়স ৬১। সেপ্টিসেমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় গত ২২ ডিসেম্বরে উলুবেড়িয়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাকে। ২৪ ডিসেম্বর হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর। এরপর  সৎকার না করে বাড়িতেই তার লাশ রেখে দেন দাদা। ঘটনাটি ঘটেছে কলকাতার হাওড়ায়, উলুবেড়িয়ার ময়নাপাড়ায়।

পুলিশ সূত্রে খবর, ২২ ডিসেম্বর অসুস্থতার কারণে, উলুবেড়িয়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয় প্রৌঢ়াকে। ২৪ ডিসেম্বর হাসপাতালেই মৃত্যু হয় তাঁর। অ্যাম্বুল্যান্সে করে বোনের মৃতদেহ বাড়িতে নিয়ে আসেন দাদা নীলমণি ধারা। যিনি নিজেও চিকিৎসক। এনআরএস মেডিক্যাল কলেজের অ্যানাটমি বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। ১৯৯৫ সালে অবসর নেন। তারপর থেকে আর প্র্যাকটিস করেন না।

বুধবার সকালে পচা গন্ধ পান প্রতিবেশীরা। গন্ধ পেয়ে তারা সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় উলুবেড়িয়া থানায় খবর দেন। পুলিশ এসে দেখে বাড়ির দরজা জানলা সব বন্ধ। তারা দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে করবীদেবীর মৃতদেহ উদ্ধার করে। এদিন পুলিশের উপস্থিতি প্রতিবেশীরা নিজেরাই দেহ সৎকারের জন্য নিয়ে যান।

নীলমণিবাবুকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরে তিনি জানান, আর্থিক অনটনের কারণেই বোনের সৎকার করতে পারেননি তিনি। তবে তার বক্তব্য বিশ্বাসযোগ্য নয়। কেননা, তিনি কারও কাছে আর্থিক সাহায্যও চাননি। পুলিশের প্রশ্ন, একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তার এতটা আর্থিক অনটন কি করে হয়, যে বোনের মৃতেদেহ সৎকারও করতে পারলেন না?

বছর দুয়েক আগে, রবিনসন স্ট্রিটে, বাড়ির শৌচাগার থেকে উদ্ধার হয় বৃদ্ধ অরবিন্দ দে-র দগ্ধ মৃতদেহ। সেই রহস্য উন্মোচনে গিয়ে বাড়িতেই মেলে পার্থ দে-র দিদি দেবযানী ও দুই পোষ্য কুকুরের কঙ্কাল। যা আগলে রেখেছিলেন পার্থ।