Thursday, April 25, 2024
দেশ

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ‘অশ্লীল’ শব্দ ব্যবহার, ৮৮জন ছাত্রীকে নগ্ন করে শাস্তি দিল স্কুল

ইটানগর: এক টুকরো কাগজে প্রধান শিক্ষকের নামে কুরুচিকর মন্তব্য লিখেছিল কোন একজন ছাত্রী। সেই অপরাধে গোটা স্কুল-ছাত্রীদের সামনে নগ্ন করে চরম শাস্তি দেয়া হল ৮৮ জন ছাত্রীকে। শুধু জোর করে পোশাক খোলানোই নয়, সঙ্গে ওই ছাত্রীদের উদ্দেশ্য কুরুচিকর মন্তব্যও করা হয়। ঘটনাটি অরুণাচল প্রদেশের পাপুম পারে জেলার৷

কস্তুরবা গান্ধী বালিকা বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণি মিলিয়ে মোট ৮৮ জন ছাত্রীকে শাস্তি দেওয়া হয়। ঘটনাটি ২৩শে নভেম্বরের হলেও বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে ২৭শে নভেম্বর। অভিযোগ, ছাত্রীদের মধ্যে কে বা কারা স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও এক ছাত্রীর নাম করে কুরুচিকর কথা লিখেছিল। সেই কাগজটি কোনওভাবে শিক্ষকদের হাতে পড়ে। কিন্তু কে এই কাজ করেছে তা জানাতে অস্বীকার করে ছাত্রীরা। তখনই বিদ্যালয়ের দু’জন অ্যাসিট্যান্ট শিক্ষক ও একজন জুনিয়র শিক্ষক ছাত্রীদের স্কুল ড্রেস খুলিয়ে শাস্তি দেন। সঙ্গে ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয়।

ঘটনাটি জানাজানি হতেই নড়েচড়ে বসে ভারতের ‘অল সাগালি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (এএসএসইউ)। এরপর গত ২৭ নভেম্বর এএসএসইউ-এর তরফে স্থানীয় থানায় ওই তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়।

পাপুম পারে জেলার পুলিশ প্রধান টাম্মে আমো জানান, মামলাটি ইটানগর মহিলা থানায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে। ওই ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলাও শুরু হয়েছে।

এখন ওই মহিলা থানা থেকে কর্মকর্তারা এসে সংশ্লিষ্ট ছাত্রী, তাদের অভিভাবক ও অভিযুক্ত শিক্ষকদের সঙ্গে বসে বিষয়টির তদন্ত করবেন বলেও পুলিশ প্রধান জানিয়েছেন।

অল পাপুম পারে ডিস্ট্রিক্ট স্টুডেন্টস ইউনিয়ন তাদের বিবৃতিতে বলেছে, ক্লাসরুম থেকে চিরকুট মেলার পর শিক্ষিকারা ছাত্রীদের কৈফিয়ত তলব করেছিলেন। কিন্তু ওই চরম শাস্তি দেওয়ার আগে তারা একবারও তাদের অভিভাবকদের কিছু জানাননি।

রাজ্য কংগ্রেস কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, একজন শিশু বা নাবালিকার আত্মমর্যাদার লঙ্ঘন করা শুধু বেআইনিই নয়, অসাংবিধানিকও বটে। ঘটনাটিকে ‘জঘন্য’ বলে নিন্দা করা হয়। ছাত্রীদের শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও চরিত্র গঠনে শিক্ষিক সমাজের ভুমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তারা ভুল করলে সংশোধন করে দেওয়া শিক্ষকদের কাজ। কিন্তু এভাবে নগ্ন করে ছাত্রীদের সংশোধন করা কোন সমুচিত কাজ নয়। এই ধরনের ঘটনা শিশু নিগ্রহের সামিল।