Thursday, April 25, 2024
দেশ

জিডি বিড়লা স্কুলে চার বছরের শিশুকে যৌন নির্যাতন: গ্রেফতার দুই অভিযুক্ত শিক্ষক

কলকাতা: দক্ষিণ কলকাতার নামী বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল জিডি বিড়লার শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠল। ৪ বছরের শিশুটির ওপর একজন নয়, দুজন মিলে যৌন নির্যাতন চালিয়েছিল। প্রথমে শিশুটিকে চকোলেটের লোভ দেখিয়ে শৌচাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখানে তার লেগিংস ও অন্তর্বাস খুলে যৌন নির্যাতন চালানো হয়। যার প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে মেডিক্যাল রিপোর্টে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুটিকে শুক্রবার সন্দেহভাজন কয়েকজনের ছবি দেখায় পুলিশ। এদের মধ্যে দুই জন শিক্ষককে চিহ্নিত করে যৌন নিগ্রহের শিকার বছর ৪ বছরের শিশুটি। এদের মধ্যে অবশ্য মূল অভিযুক্ত অভিষেক রায় নামে শারীরিক শিক্ষার এক শিক্ষক। তাকে গ্রেফতার করা হয়। শিশুটির বয়ান পুরোটাই পুলিশ রেকর্ড করেছে বলে জানা গেছে।

অভিযুক্ত অভিষেক রায়

ডাক্তাররা জানিয়েছেন, শিশুটির রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়েছে। এখন তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল। যৌনাঙ্গে ক্ষতচিহ্ন রয়েছে।

নির্যাতিতা শিশুটির বাবার অভিযোগ, বৃহস্পতিবার চকোলেট দেয়ার লোভ দেখিয়ে তাকে স্কুলের শৌচাগারে নিয়ে যায় স্কুলেরই দুই পুরুষ শিক্ষক। তারপরে শিশুটিকে অশ্লীল ভিডিও দেখানো হয়। এর সঙ্গেই শিশুটির শারীরিক হেনস্থা করা হয়।অত্যাচারের পরে শিশুটিকে ফের স্কুলের পোশাক পরিয়ে ক্লাসে নিয়ে যায় দুই অভিযুক্ত শিক্ষক।

বৃহস্পতিবার  ৪ বছরের শিশুটি স্কুল থেকে ফেরার পরেই গোপনাঙ্গে যন্ত্রণার কথা জানায় তার মা-কে৷ গোপনাঙ্গ থেকে রক্তও পড়তে দেখা যায়৷ সঙ্গে সঙ্গে শিশুটিকে নিয়ে যাওয়া হয় পারিবারিক চিকিত্সকের কাছে৷ পরিবারের তরফে নেতাজিনগর থানায় যাওয়া হয়৷ মেডিক্যাল রিপোর্ট আসার পরেই গ্রেফতার করা হয় দু’জনকে৷ ধৃত অভিষেক রায় ও মহঃ মফিজুলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ আইনের ৪ ও ৬ ধারায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

অভিযুক্ত মহঃ মফিজুল

পকসো আইনের ৫ নম্বর ধারার ৬ নম্বর উপধারা অনুযায়ী অভিযোগ রুজু করা হয়। অ্যাগ্রাভেটেড পেনিট্রেটিভ সেক্সুয়াল অ্যাসল্ট। কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠাবনে স্টাফ যুক্ত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ধারা প্রযোজ্য হয়। এই ধারায় ন্যূনতম সাজা ১০ বছরের জেল ও জরিমানা। সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন।

এদিকে স্কুলের মধ্যে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীর শ্লীলতাহানির ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সকালের পর ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে স্কুল চত্বর। অভিভাবকদের দফায় দফায় বিক্ষোভে উত্তাল হয় স্কুল চত্বর। সামলাতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে।

এই ঘটনার পর একই সঙ্গে অভিভাবকদের দাবি, স্কুলে রাখা চলবে না কোনও পুরুষ শিক্ষক বা শিক্ষাকর্মী। লাগাতে হবে সিসিটিভি।