Friday, June 14, 2024
দেশ

ফের চলন্ত গাড়িতে গণধর্ষণের শিকার তরুণী

মেদিনীপুর: রাজ্যে নাবালিকা থেকে প্রাপ্তবয়স্কের যৌন নির্যাতনের ঘটনা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এবার পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতায় কাজ দেওয়ার নাম করে ডেকে নিয়ে গিয়ে যুবতীকে গণধর্ষণ করে খাদে ফেলে খুনের চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাদের ধরে ফেলে।

নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার বিকালে শিলাবতীর পাড়ে গনগনি পিকনিক স্পটে। ওই ছাত্রীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে খাদে ফেলে মেরে ফেলার চেষ্টা করে দুষ্কৃতীরা। মেয়েটির আর্ত চিৎকারে স্থানীয় কৃষকরা ছুটে এসে তিনজন দুষ্কৃতীকে ধরে ফেলে। ওই দিন রাতেই গড়বেতা থানায় ধর্ষিতা ছাত্রীর দাদা অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ মধ্য রাত পর্যন্ত ঘটনাটি মিটিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেয়। শেষপর্যন্ত গ্রামের মানুষের বিক্ষোভের ফলে পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করে।

গড়বেতা থানার রসকুণ্ডু অঞ্চলের আউশবাঁধি গ্রামের এক প্রান্তিক কৃষক পরিবারের মেয়ে। বয়স ২৩। গড়বেতার একটি টিউশন সেন্টারে ছাত্র পড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে একটি হার্বাল কোম্পানির বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করে পড়াশোনা চালাত ওই ছাত্রী। সম্প্রতি বেশ কয়েক মাস সেই সংস্থা পণ্যসামগ্রী সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার ফলে ছাত্রীটির ওই কাজ বন্ধ হয়ে যায়। তাঁর বেশ কিছু পাওনাও বকেয়া রেখে দেয় ওই কোম্পানি। এই কাজের সূত্রেই কোম্পানির বেশ কিছু ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল। পরিচয় হয়েছিল সৌমিত্র ঘোষ এবং সুশোভন দাসের সঙ্গে।

পুলিশ সূত্রে খবর, কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে দেখা করতে বলে পূর্ব পরিচিত দুই যুবক। কিন্তু ওই তরুণী দেখা করতে না চাইলে গত মঙ্গলবার জোর করে তাকে ওই দুই যুবক গাড়িতে তুলে নেয়। এবং গাড়িতেই তাকে গণধর্ষণ করা হয়। অভিযুক্তরা গণধর্ষণের পর নির্যাতিতাকে রাস্তায় ফেলে পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাদের ধরে ফেলে।

পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন রাতেই সৌমিত্র ঘোষ, সুশোভন দাস ও সঞ্জিত গুপ্তা নামে তিনজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেন যুবতীর পরিবার। সৌমিত্র কলকাতার টালার নন্দকিশোর স্ট্রিট এলাকার বাসিন্দা। পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরের বামুনাড়া কসবা এলাকায় বাড়ি সুশোভনের। অপর অভিযুক্ত সঞ্জিত গুপ্তা গাড়িচালক। সে চন্দ্রকোনা রোডের অপর্ণাপল্লির বাসিন্দা।

নির্যাতিতা যুবতির বক্তব্য, তাঁকে কাজ দেওয়ার নাম করে দেখা করার কথা বলে সৌমিত্র ঘোষ ও সুশোভন দাস। দেখা করতে না চাইলে বাড়ির অদূরে তাকে জোর করে তারা গাড়িতে তুলে নেয়। এরপরে গনগনির কাছে গাড়িতে তাকে ধর্ষণ করা হয়। তার চিৎকারে আশপাশের লোকেরা জড়ো হয়ে যায়। সেই সময় গাড়ির দরজা খুলে তাকে ফেলে পালানোর চেষ্টা করে অভিযুক্তরা।

নির্যাতিতা ওই স্নাতকোত্তর ছাত্রীর দাবি, গাড়িতে গণধর্ষণের পরে তাঁকে খুন করারও চেষ্টা হয়েছিল। পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা দাবি করেছে, ধর্ষণের অভিযোগ মিথ্যা। সে যুবতী পড়ে গিয়েছিল। তাঁকে ঠেলে ফেলে দেওয়া হয়নি।