Tuesday, June 18, 2024
আন্তর্জাতিক

৩ দিনের তিব্বত সফরে জিনপিং

লাসা: তিব্বত সফর গেলেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। চিনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে এটাই তাঁর প্রথম তিব্বত সফর। বুধবার দক্ষিণ-পূর্বে নিয়াংঝি মেইনলিং বিমানবন্দরে পৌঁছন তিনি। তিনদিনের সফরে তিব্বত পৌঁছলে তাঁকে তিব্বতের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। চিনের পতাকা উড়িয়ে লালগালিচায় সংবর্ধনা জানানো হয়।

জিনপিং তিব্বতের বিভিন্ন স্থানে চিনের নেতৃত্বে চলমান উন্নয়নমূলক কাজ পরিদর্শন করেন। লাসায় পোটালা প্রাসাদ স্কয়ার সংলগ্ন বৌধ সন্ন্যাসীদের আশ্রম পরিদর্শন করেন। জিনপিংয়ের আচমকা তিব্বত সফর নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, তিব্বতকে চিনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে তুলে ধরতে জিনপিংয়ের এই সফর।

জিনপিং পিং ইয়াং সেতু পরিদর্শন করেন। এরপর ইয়ারলুং সাংপো ও ইয়ান নদীবাহিত এলাকার পরিবেশ সুরক্ষা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তারপর নিয়াংঝি সিটি প্ল্যানিং মিউজিয়ামসহ নানা এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি। নিয়াংঝি রেলস্টেশনে গিয়ে সিচুয়ান-তিব্বত রেলওয়ের কার্যক্রম দেখেন। এরপর ট্রেনে করে তিব্বতের রাজধানী লাসার উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।

১৯৯৮ সালে ফুজিয়ান প্রদেশ থেকে দলের প্রধান হিসেবে তিব্বত সফর করেন। পরে ২০১১ সালে তিব্বত সফর করেন চিনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে। তবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে এটা জিনপিংয়ের প্রথম তিব্বত সফর। ১৯৯০ সালে সর্বশেষ চিনের প্রেসিডেন্ট জিয়াং জেমিন তিব্বতে সফর করেন।

তিব্বত চিনের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। যদিও তিব্বতিরা চিনের সেই দাবি মানতে নারাজ। জনরোষ সামলাতে ২০০৮ সাল থেকে তিব্বতের উন্নয়নে ব্যাপক অর্থ বিনিয়োগ করছে চিন। কিন্তু চিনের অর্থায়নে উন্নয়নের প্রভাবে স্থানীয় সংস্কৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এর বিরুদ্ধে ২০০৮ সালে তাঁরা বিক্ষোভ প্রদর্শনও করেন। গত কয়েক দশকে একাধিকবার চিনা শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন তিব্বতিরা। এসব বিক্ষোভে বহু মানুষ নিহত হয়েছেন।

১৯৫৯ সালে তিব্বতিরা দালাই লামার নেতৃত্বে চিনের বিরুদ্ধে নিজেদের স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন গড়ে তোলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সফল হতে পারেনি তিব্বতিরা। দালাইলামা ২০ বছর বয়েসে ১৯৫৯ সালের মার্চে চিনা সেনাবাহিনীর হামলার মুখে ভারতে পালিয়ে আসেন। ভারত সরকার তাকে আশ্রয় দেয়। ধর্মশালায় রয়েছেন তিনি। প্রায় ৮০ হাজার তিব্বতি ধর্মশালায় আশ্রয় নিয়েছেন এবং তিব্বতের স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।