Monday, June 24, 2024
শিক্ষাঙ্গন

হিমালয়ে বারবার ভূমিকম্প হওয়ার কারণ

জেনেভা: পার্বত্য অঞ্চলে ঘন ঘন ভূমিকম্পের ঘটনা প্রায়ই প্রকাশ্যে আসে। কিন্তু হিমালয়ের মত উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে কেন এত বেশি ভূমিকম্প হয়? সেই রহস্যের উদঘাটন করল সুইজারল্যান্ডে জুরিখের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা।

গবেষকরা জানিয়েছেন, টেকটনিক প্লেটের মধ্যে ঘন ঘন সংঘর্ষের কারণেই এই পার্বত্য অঞ্চলে ভূমিকম্পের প্রবণতা অনেক বেশি থাকে। শুধু হিমালয় পর্বতেই নয়; আল্পস, আপেন্নাইনস এবং জাগ্রোস পর্বতে ভূমিকম্পের হার অনেক বেশি। পাহাড়ের উচ্চতা যত বেশী হবে ভূমিকম্পের হার তত বেশি হবে।

২০১৫তে পোরখা-নেপাল সীমান্ত কেঁপে উঠেছিল ভূমিকম্পে। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৭.৮। এক বছর পর ৬.২ রিখটার স্কেলে কেঁপে উঠেছিল নরসিয়া এবং ইতালিতও। এই দুটি ভূমিকম্পের জন্যই দায়ী উচ্চতা।

পার্বত্য অঞ্চলে কেন এত ভূমিকম্প হয়? সেই বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা চলছিল। পাহাড়ের উচ্চতা যত বাড়বে।

তত টেকটনিক প্লেটেক মধ্যে সংঘর্ষের সম্ভাবনা আরও বেড়ে যায়। এই ভূমিকম্পের জন্য দায়ী থাকে তাপমাত্রাও। তাপমাত্রা কমলে ভূমিকম্পের সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।

জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক জানিয়েছেন, পার্বত্য অঞ্চলে ভূমিকম্প হলে তা ভয়াবহ আকার নেয়। গবেষকেরা একটি ২ডি মডেলের মাধ্যমে এই সম্পূর্ণ বিষয়টি তারা তুলে ধরেছেন।

জিওহ্যাজার্ডসের প্রতিষ্ঠাতা ও গবেষক ব্রায়ান টাকার বলেন, ভারত, কাঠমান্ডু ও এর আশপাশের অঞ্চল পুরোনো হ্রদের শুকনো ভূত্বক দিয়ে তৈরি, যার ফলে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হতে পারে। এখানকার মাটি খুবই নরম যা ভূকম্পনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। শুধুমাত্র ভারত কিংবা কাঠমান্ডু নয়; তেহরান, হাইতি, লামা, পেরু, পাদাং, ইন্দোনেশিয়াও একই রকম ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এসব অঞ্চলে টেকটোনিক খাঁজ রয়েছে। এখানকার ভবন তৈরির মান এবং ভূমিকম্পের প্রস্তুতিও পর্যাপ্ত নয়।

এশিয়া অঞ্চলে ভূতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করছেন কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রজার বিলহাম। তিনি বলেন, গতকালের ভূমিকম্প এক থেকে দুই মিনিট স্থায়ী ছিল। কাঠমান্ডুর নিচ দিয়ে প্রায় ৭৫ মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত চ্যুতির মধ্যে ভূত্বকের এই খাঁজটি প্রায় ১০ ফুট পর্যন্ত সরে গেছে। এতে পুরো কাঠমান্ডু শহরটিই দক্ষিণ দিকে পায় ১০ ফুট সরে যায়।