Monday, December 15, 2025
Latestআন্তর্জাতিক

বাংলাদেশে বাড়ছে হিন্দু নির্যাতন, উদ্বেগ প্রকাশ ব্রিটেনের

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর চলতে থাকা হিংসা ও নিপীড়ন নিয়ে ফের সরব হলো আন্তর্জাতিক মহল। ভারত, আমেরিকার পর এবার ব্রিটেনও তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

ব্রিটেনের পার্লামেন্টের নিম্ন কক্ষ ‘হাউস অফ কমনস’-এ বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বিবৃতি পেশ করে বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির সাংসদ বব ব্ল্যাকম্যান। তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের উপর হামলা, নির্যাতন এবং দেশছাড়া করার ঘটনা বাড়ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

তার জবাবে শাসক লেবার পার্টির সাংসদ এবং হাউস অফ কমনসের নেতা স্যার অ্যালান ক্যাম্পবেল বলেন, “ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর যেভাবে হিংসা এবং অত্যাচারের ঘটনা ঘটছে, তা গভীরভাবে উদ্বেগজনক। আমরা এই ঘটনাগুলির তীব্র নিন্দা করছি। বাংলাদেশের মানবাধিকারের পরিস্থিতির দিকে আমরা নিবিড়ভাবে নজর রাখছি। একইসঙ্গে, গণতান্ত্রিক পদ্ধতি বজায় রেখে যেন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর করে, তাও আমরা পর্যবেক্ষণ করছি।”

চলতি বছরের শুরুতেই বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছিল, সংখ্যালঘুদের উপর হামলার অধিকাংশ ঘটনাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রণোদিত। পরে অন্তর্বর্তী সরকার জানায়, গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ২,৩৭৪টি অভিযোগ দায়ের হয়েছে, যার মধ্যে ১,২৫৪টি যাচাই করেছে পুলিশ।

তবে ভারতের অবস্থান ভিন্ন। নয়াদিল্লির মতে, কেবল ‘রাজনৈতিক কারণে’ বলে ঘটনাগুলিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। সংখ্যালঘুদের উপর নিপীড়নের অভিযোগগুলি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি বলে মত ভারতের। জানুয়ারিতে ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, বাংলাদেশ প্রশাসনের উচিত প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছ তদন্ত চালানো এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস সংখ্যালঘু নির্যাতনে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। যদিও সেই নির্দেশ কতটা কার্যকর হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন সরকারের পদক্ষেপের উপর নজর রাখছে।

উল্লেখ্য, পরিসংখ্যান ঘাঁটলে দেখা যায়, বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে সংখ্যালঘুরা হু হু করে কমছে। যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।