Sunday, May 3, 2026
Latestআন্তর্জাতিক

পাকিস্তানে একের পর এক রহস্যময় টার্গেট কিলিং: অজ্ঞাত আততায়ীর হামলায় নিহত হিজবুল কমান্ডার সাজ্জাদ আহমেদ

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: পাকিস্তানে ফের সক্রিয় অজ্ঞাত হামলাকারীদের ছায়া। একের পর এক টার্গেটেড হামলায় নিহত হচ্ছে ভারত-বিরোধী জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা। সর্বশেষ ঘটনায়, হিজবুল মুজাহিদিনের কমান্ডার সাজ্জাদ আহমেদের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। দাবি, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ-এ অজ্ঞাত আততায়ীর গুলিতে খুন করা হয়েছে তাকে। যদিও এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পাকিস্তানের তরফে কোনও সরকারি বিবৃতি প্রকাশিত হয়নি।

স্থানীয় সূত্রের খবর, কাশ্মীরের বারামুলার বাসিন্দা সাজ্জাদ দীর্ঘদিন ধরেই জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ১৯৯৭ সালে জঙ্গি সংগঠনে যোগ দিয়ে ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ পদে উঠে আসে সে। পরবর্তীতে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে গিয়ে সেখান থেকেই ভারত-বিরোধী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত বলে অভিযোগ। গোয়েন্দা মহলের দাবি, জম্মু ও কাশ্মীর-সহ ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে হামলার ছক কষা এবং তা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তার। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা সংস্থার হিট লিস্টে ছিল সাজ্জাদের নাম।

টার্গেট কিলিংয়ে আতঙ্কে জঙ্গি সংগঠন

সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানে একাধিক জঙ্গি নেতার রহস্যমৃত্যু নতুন করে প্রশ্ন তুলছে নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিয়ে। লস্কর-ই-তৈবা এবং জইশ-ই-মহম্মদ-এর মতো সংগঠনের সদস্যরাও একইভাবে টার্গেট হচ্ছেন।

কিছুদিন আগেই খাইবার পাখতুনখোয়ায় অজ্ঞাত হামলায় নিহত হন লস্করের শীর্ষ কমান্ডার শেখ ইউসুফ আফ্রিদি। তিনি ওই অঞ্চলে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ ও অপারেশন পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন বলে জানা যায়। অন্যদিকে, জইশের শীর্ষ নেতা সালমান আজহারও রহস্যজনক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। তাকে সংগঠনের প্রধান মাসুদ আজহারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন।

অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নাকি পরিকল্পিত অভিযান?

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকতে পারে জঙ্গি সংগঠনগুলির অভ্যন্তরীণ কোন্দল। আবার অন্য একটি মত বলছে, এটি অত্যন্ত পরিকল্পিত ‘টার্গেট কিলিং’ অপারেশন, যার উদ্দেশ্য পাকিস্তানে সক্রিয় ভারত-বিরোধী নেটওয়ার্ককে দুর্বল করা।

২০১৯ সালের পর থেকে এই ধরনের ঘটনায় অন্তত ২০ জনেরও বেশি জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আশ্চর্যের বিষয়, এই ঘটনাগুলির অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পাকিস্তান সরকার বা তাদের গোয়েন্দা সংস্থার তরফে স্পষ্ট কোনও তথ্য সামনে আসেনি।

তদন্তে নীরবতা, বাড়ছে প্রশ্ন

বিশেষজ্ঞদের দাবি, পাকিস্তানের পঞ্জাব, গিলগিট এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীর (POK)-এ এখনও বহু জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবির সক্রিয় রয়েছে। হাজার হাজার জঙ্গি এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত। এই অবস্থায় ধারাবাহিক টার্গেট কিলিং শুধু জঙ্গি সংগঠনগুলির ওপর চাপই বাড়াচ্ছে না, বরং পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলছে।