পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করলো ভারত
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় আবারও একটি উল্লেখযোগ্য ডিজেল চালান বাংলাদেশে পৌঁছেছে। ভারতের শিলিগুড়ি অঞ্চলে অবস্থিত নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেডের (Numaligarh Refinery Limited) টার্মিনাল থেকে বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেল হেড ডিপোতে সরবরাহ করা হয়েছে। এই প্রকল্পটি দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি খাতে পারস্পরিক নির্ভরতা ও সহযোগিতার একটি সফল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে এই চালানটি পার্বতীপুর ডিপোতে পৌঁছায়। ডিপোর ইনচার্জ আহসান হাবিব চৌধুরী জানান, নির্ধারিত সময়সূচি মেনে পুরো সরবরাহ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
জানা গেছে, গত ২৮ এপ্রিল ভারতীয় টার্মিনাল থেকে ডিজেল পাম্পিং শুরু হয় এবং প্রায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পুরো সরবরাহ কার্যক্রম শেষ হয়। এই দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ সম্ভব হয়েছে Bangladesh-India Friendship Pipeline ব্যবহারের মাধ্যমে। ভূগর্ভস্থ এই পাইপলাইনটি সরাসরি ভারত থেকে বাংলাদেশে জ্বালানি পরিবহনের একটি আধুনিক ও কার্যকর পদ্ধতি, যা সময়, খরচ এবং ঝুঁকি—তিনটিই উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে এনেছে।
ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে এই প্রকল্পটি কেবল একটি জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাই নয়, বরং আঞ্চলিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ নীতির আওতায় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সংযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এই পাইপলাইন তার একটি বাস্তব উদাহরণ। এর মাধ্যমে ভারত তার জ্বালানি অবকাঠামোকে আঞ্চলিক পর্যায়ে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের জন্য এই সরবরাহ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দেশের উত্তরাঞ্চলে জ্বালানির চাহিদা পূরণে পার্বতীপুর রেল হেড ডিপো একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। কৃষি যন্ত্রপাতি চালানো, পরিবহন খাত সচল রাখা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ডিজেলের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। ফলে এই ধরনের নিয়মিত সরবরাহ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, আগামী মে মাসেও পর্যাপ্ত পরিমাণ ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। এতে করে অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে এবং কোনো ধরনের সংকটের আশঙ্কা কমবে। বিশেষ করে বোরো মৌসুম ও গ্রীষ্মকালীন বিদ্যুৎ চাহিদা মোকাবিলায় এই সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাইপলাইনভিত্তিক এই জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতার একটি মডেল হয়ে উঠতে পারে। সড়ক বা সমুদ্রপথের তুলনায় এটি অনেক বেশি নিরাপদ, দ্রুত এবং পরিবেশবান্ধব। একই সঙ্গে এতে অপচয় কম হয় এবং সরবরাহে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সহজ হয়। ফলে ভারত ও বাংলাদেশের এই যৌথ উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে উভয় দেশের অর্থনীতি, জ্বালানি ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেই আশা করা হচ্ছে।


