Thursday, October 8, 2026
Latestআন্তর্জাতিক

‘ফ্রান্স দখল করতে চাইছে ইসলাম’, মন্তব্য ট্রাম্পের

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ফ্রান্সজুড়ে স্কুলশিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবাদ-বিক্ষোভ নিয়ে মুখ খুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ‘ফ্রান্সে চলা এই আন্দোলনের নেপথ্যে শুধু শিক্ষা সংক্রান্ত দাবি নেই, বরং এর সঙ্গে ব্যাপক অভিবাসন এবং ইসলাম ফ্রান্স দখল করতে চাইছে।’

বুধবার ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ফ্রান্সে যা ঘটছে তা “নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া ব্যাপক অভিবাসন”-এর ফল। তাঁর দাবি, “এটি স্কুল নিয়ে নয়, এটি ইসলাম একটি একসময়ের মহান দেশকে দখল করতে চাইছে—এমন বিষয়।”

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দেশজুড়ে বিক্ষোভে ২ লক্ষ ৬৬ হাজারেরও বেশি মানুষ অংশ নেন। শুধু প্যারিসেই বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৫৬ হাজার। প্যারিসে মিছিল মূলত শান্তিপূর্ণ থাকলেও পরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের একাংশের সংঘর্ষ হয় এবং পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। প্রায় ৫০০ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি প্যারিস অঞ্চলের একটি স্কুল থেকে এই আন্দোলনের সূত্রপাত। এরপর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তা ছড়িয়ে পড়ে। পড়াশোনার জন্য আরও অর্থ বরাদ্দ, পর্যাপ্ত শিক্ষক ও কর্মী নিয়োগ এবং স্কুলগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবিতে পড়ুয়ারা দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে স্কুল অবরোধ এবং ক্লাস বয়কট করে আসছেন।

তবে আন্দোলনের সঙ্গে অভিবাসনকে সরাসরি যুক্ত করার দাবি নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। ছাত্র সংগঠনগুলির বক্তব্য, তাঁদের মূল দাবি শিক্ষা ব্যবস্থায় আরও অর্থ বরাদ্দ, পর্যাপ্ত শিক্ষক-কর্মী এবং উন্নত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা।

বিক্ষোভ দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কাঁদানে গ্যাস, লাঠি এবং অন্যান্য ভিড় নিয়ন্ত্রণের সরঞ্জাম ব্যবহারের সমালোচনা করেছেন পড়ুয়া, অভিভাবক ও শিক্ষক সংগঠনের একাংশ। একটি বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের ব্যবহৃত গ্রেনেডের বিস্ফোরণে ১৫ বছরের এক কিশোরের হাত গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাও ক্ষোভ বাড়িয়েছে।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ অবশ্য পুলিশের পদক্ষেপকে সমর্থন করে বলেছেন, প্রায় সব ক্ষেত্রেই পুলিশের প্রতিক্রিয়া ছিল পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বিক্ষোভ হিংসাত্মক হয়ে উঠলেই পুলিশ হস্তক্ষেপ করেছে।

এই পরিস্থিতিতে চাপ বেড়েছে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকারের উপরও। বাজেট ঘাটতি এবং সরকারি ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা নিয়ে ইতিমধ্যেই সরকারের উপর চাপ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নো শিক্ষক নিয়োগ, স্কুলের সময়সূচি এবং পুরনো স্কুল ভবন মেরামতের মতো বিষয় পর্যালোচনার আশ্বাস দিয়েছেন। অক্টোবরের শেষের দিকে এ বিষয়ে প্রস্তাব দেওয়ার কথা রয়েছে।

তবে বিক্ষোভকারীদের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, শিক্ষাক্ষেত্রে দ্রুত এবং বাস্তব উন্নতি করতে হবে। দেশের আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছে একাধিক ছাত্র সংগঠন।