Monday, April 13, 2026
Latestরাজ্য​

Swapna Barman: ভোট লড়তে আর কোনো আইনি বাধা রইলো না স্বপ্না বর্মনের, ছাড়পত্র কমিশনের

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ (West Bengal Assembly Election 2026)-এর আগে বড় স্বস্তি পেলেন স্বপ্না বর্মন। রেলের চাকরি, ইস্তফা এবং আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার মাঝেই অবশেষে তাঁর প্রার্থীতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আইনগত দিক থেকে কোনও বাধা না থাকায় স্বপ্না বর্মন নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন।

রেলের চাকরি থেকে ইস্তফা না দিয়েই গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তৃণমূলে (All India Trinamool Congress) যোগ দেন বলে অভিযোগ ওঠে স্বপ্নার বিরুদ্ধে। সেই ঘটনাকে ঘিরেই শুরু হয় বিতর্ক। প্রশ্ন ওঠে, সরকারি চাকরিতে বহাল থাকা অবস্থায় রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়া এবং সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ নেওয়া কতটা নিয়মসঙ্গত। এর জেরেই তাঁর প্রার্থী পদ নিয়েও সংশয় তৈরি হয় রাজনৈতিক মহলে।

নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী, স্বপ্না বর্মন ২০২৬ সালের ২ এপ্রিল আবেদন করেন যাতে তিনি এপ্রিল-মে মাসে নির্ধারিত বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। সেই আবেদন খতিয়ে দেখে ৫ এপ্রিল কমিশন শংসাপত্র জারি করে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ‘জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১’-এর ধারা ৯ অনুযায়ী তাঁর প্রার্থীতা বাতিল করার মতো কোনও পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। ফলে আইনগতভাবে তাঁর নির্বাচনে লড়তে কোনও বাধা নেই।

অন্যদিকে, রেল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে যে, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ২৭ মার্চ ২০২৬ থেকে স্বপ্না বর্মনকে বরখাস্ত করা হয়। অভিযোগ ছিল, তিনি চাকরিতে বহাল থাকা অবস্থাতেই রাজনৈতিক কার্যকলাপে অংশ নিয়েছেন, যা সরকারি কর্মচারীর নিয়মবিরুদ্ধ। এছাড়াও কর্তব্যে নিষ্ঠার অভাব এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতেই বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এর আগে ৯ মার্চ তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়। পরে ১৬ মার্চ স্বপ্না বর্মন ইস্তফা জমা দিলেও, চলতি তদন্তের কারণে সেই ইস্তফা গ্রহণ করা হয়নি বলে জানায় রেল। ফলে পুরো বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে এবং তাঁর প্রার্থিতা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

তবে নির্বাচন কমিশন তাদের সিদ্ধান্তে স্পষ্ট করে দিয়েছে, স্বপ্না বর্মনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা রাষ্ট্রের প্রতি অবিশ্বস্ততার মতো গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। এই কারণেই ‘জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১’-এর ধারা ৯ অনুযায়ী তাঁকে নির্বাচনে লড়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষণা করার কোনও ভিত্তি নেই। কমিশনের এই অবস্থানেই মূলত তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে তৈরি হওয়া জট কেটে যায়।

উল্লেখ্য, স্বপ্না বর্মন ২০১৮ এশিয়ান গেমসে সোনা জিতে দেশকে গর্বিত করেছেন। পাশাপাশি অর্জুন পুরস্কারেও সম্মানিত হয়েছেন তিনি। ক্রীড়া জগতে সাফল্যের পর এবার তিনি রাজনীতির ময়দানে নতুন ইনিংস শুরু করতে চলেছেন।

বিতর্কের মাঝেও নির্বাচন কমিশনের ছাড়পত্র পাওয়ায় তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। এখন নজর আসন্ন নির্বাচনে মাঠের মতো ভোটের লড়াইয়েও কতটা সফল হন স্বপ্না বর্মন, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষায়।