পুরোহিতকে বিয়ে করলে তিন লক্ষ রুপি

এখন থেকে প্রকৌশলী, ডাক্তার বিয়ের আগে মন্দিরের পুরোহিতকে বিয়ে করার কথা ভাববে তেলেঙ্গানা নারীরা। কেননা  রাজ্যটিতে পুরোহিতকে বিয়ে করলে মিলবে ৩ লক্ষ রুপি।

তেলেঙ্গানা রাজ্যের কয়েক হাজার পুরোহিতদের নাকি বিয়ে হচ্ছে না। মেয়েদের নাকি পুরোহিত স্বামী পছন্দ নয়! ব্রাহ্মণ পুরোহিতদের নিশ্চিত বেতন আর মোটা আয় না থাকায় নারীরা তাদের বিয়ে করতে আগ্রহী হয় না। সম্প্রতি এমন ভাবনা থেকে রাজ্যের নারীদের মন্দিরের ব্রাহ্মণ, পুরোহিতদের বিয়েতে উৎসাহিত করতে ৩ লাখ রুপি সহায়তার কথা জানিয়েছে তেলেঙ্গানা রাজ্য সরকার।

তেলেঙ্গানা ব্রাহ্মণ উন্নয়ন পরিষদের অন্যতম সদস্য অবধানুলা নরসিমহা শর্মা বলেন, ‘এ যুগের নারীদের পছন্দের তালিকায় আমেরিকা, সিঙ্গাপুর বা ঘরের কাছে ব্যাঙ্গালোর, চেন্নাই বা হায়দ্রাবাদে কর্মরত ছেলেরাই থাকে। তাই বিয়ের বাজারে পুরোহিতদের এখন আর কেউ দাম দেয় না।’

তিনি জানান, এমনও ঘটনা আছে, যেখানে ব্রাহ্মণ পুরোহিতের পরিবার বিয়ের সমস্ত খরচ বহন করতে চেয়েছে তা স্বত্ত্বেও মেয়ের পরিবার বিয়ে দিতে রাজি হয়নি।

তেলেঙ্গানা রাজ্যে ৩১টি জেলা রয়েছে। গড়ে প্রতিটি জেলায় ৩০ হাজার বিবাহযোগ্য ব্রাহ্মণ পুরোহিত আছেন।

নরসিমহা শর্মা নিজেও একজন পুরোহিত। তার নিজেরও দুই মেয়ে আছে। নিজের মেয়েদেরও তিনি পুরোহিতের সঙ্গে বিয়ে দিতে চান না।

তিনি বলেন, ‘দুই মেয়ের মধ্যে একজনের বিয়ে যদি তিনি আমেরিকাবাসী কোনো পাত্রের সঙ্গে দেন, আর অন্যজনকে পুরোহিতের সঙ্গে- তাহলে কি সেই মেয়ে মেনে নেবে সেটা?’

এই পুরোহিতের কথায়, এখন যা জীবনাযাত্রা, মেয়েরাও সিনেমা দেখতে যাবে, হোটেলে খেতে যাবে বা হয়ত পানশালায় যাবে। অন্যদিকে পুরোহিত পরিবার তো শাস্ত্র-বেদ এসব নিয়েই থাকে।

পুরোহিত পাত্রকে বিয়ে করার উৎসাহ দেওয়াসহ ব্রাহ্মণদের উন্নয়নের জন্য সরকার মোট একশ’ কোটি রুপি বাজেট বরাদ্দ করেছে।

এদিকে নতুন স্কিম নিয়ে নানা সমালোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা প্রশ্ন করছেন, এ পেশায় যুক্তদের জীবনমান না বাড়িয়ে শুধু উৎসাহ ভাতা কেন দিচ্ছে সরকার? নারীদের এ ব্যাপারে উৎসাহ করা হচ্ছে। বিয়েই কী নারীর জীবনের একমাত্র লক্ষ্য? এমন প্রশ্নও করছেন তারা।

গত মাসে রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রায় ঘোষণা দিয়েছিলেন, ৪ হাজার ৮০৫টি মন্দিরের পুরোহিতরা এখন থেকে নির্দিষ্ট অংকের বেতন পাবেন। বিবিসি বাংলা।