Saturday, August 1, 2026
Latestদেশ

ঝাড়খণ্ডে PGT নিয়োগে তুমুল বিতর্ক: ৩০০-র মধ্যে ২৯৯.১৭৫ নম্বর পেয়েও নাম নেই মেধাতালিকায়, নিয়োগে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ঝাড়খণ্ডে শিক্ষক নিয়োগকে ঘিরে ফের বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন (JSSC)-এর পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনড টিচার (PGT) নিয়োগ পরীক্ষায় এক পরীক্ষার্থী ৩০০-র মধ্যে ২৯৯.১৭৫ নম্বর, অর্থাৎ প্রায় ৯৯.৭ শতাংশ নম্বর পাওয়ার দাবি করলেও, চূড়ান্ত মেধাতালিকায় তাঁর নাম নেই। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

এই বিতর্ক এমন এক সময় সামনে এসেছে, যখন ঝাড়খণ্ডে JSSC ও JPSC-র একাধিক নিয়োগ পরীক্ষা ইতিমধ্যেই অনিয়ম, স্বচ্ছতার অভাব এবং দুর্নীতির অভিযোগে সমালোচনার মুখে।

৯৯.৭ শতাংশ নম্বর, তবুও মেধাতালিকায় নাম নেই

অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থী PGT পরীক্ষায় ৩০০-র মধ্যে ২৯৯.১৭৫ নম্বর অর্জন করেছেন। অর্থাৎ পরীক্ষার অংশে প্রায় ৯৯.৭ শতাংশ নম্বর পাওয়ার পরও তিনি চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হননি। ফলে মেধাতালিকা কীভাবে তৈরি হয়েছে এবং নির্বাচনের ক্ষেত্রে কী কী মানদণ্ড প্রয়োগ করা হয়েছে, তা নিয়ে অন্যান্য চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যেও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।


আগেও বিতর্কে ছিল JSSC-PGT নিয়োগ

JSSC-PGT নিয়োগ নিয়ে এর আগেও একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ঝাড়খণ্ড বিজেপি অভিযোগ করেছিল, PGT পরীক্ষায় একটি নির্দিষ্ট পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে অস্বাভাবিক সংখ্যক পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বিজেপি নিয়োগ প্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানায়।


২০২৬ সালে আবারও এই নিয়োগ প্রক্রিয়া নতুন করে আলোচনায় আসে একটি নিয়োগ জালিয়াতি মামলাকে ঘিরে।

চাকরি দেওয়ার নামে কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ২০২৬ সালের জুলাই মাসে JSSC-PGT নিয়োগে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে আরও চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। এর ফলে এই মামলায় মোট গ্রেফতারের সংখ্যা দাঁড়ায় পাঁচ।


অভিযোগ, অভিযুক্তরা চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা দাবি করছিল। একটি ক্ষেত্রে ১০ লক্ষ টাকা দাবি করার অভিযোগও সামনে এসেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রথম অভিযুক্ত হিসেবে সুশীল কুমার, যিনি ইন্ডিয়া রিজার্ভ ব্যাটালিয়নের (IRB) একজন কর্মী, তাকে ১০ জুলাই গ্রেফতার করা হয়। পরে আরও চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, এর পিছনে আরও বড় কোনও চক্র কাজ করছে কি না।

তল্লাশিতে উদ্ধার গুরুত্বপূর্ণ নথি

পুলিশের দাবি, অভিযুক্তদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে—

– JSSC-PGT পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড,

– পরীক্ষার্থীদের আসল শিক্ষাগত শংসাপত্র,

– আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য,

– হাইকোর্টের একটি আদেশের অনুলিপি,

– ফাঁকা চেক,

– একটি আধার কার্ড,

– একাধিক মোবাইল ফোন।

এই ঘটনায় মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং আরও জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

রাস্তায় নেমে ছাত্রদের বিক্ষোভ

PGT বিতর্কের মধ্যেই ২০২৬ সালের ২৯ জুলাই রাঁচিতে JPSC ও JSSC-র বিরুদ্ধে বৃহত্তর ছাত্র আন্দোলন দেখা যায়। সেদিন ছাত্ররা জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়াম থেকে আলবার্ট চৌক পর্যন্ত মিছিল করে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবি জানায়।


বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নিয়োগ পরীক্ষাগুলি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হচ্ছে না।

এক বিক্ষোভকারী দাবি করেন, “পুরো JPSC নিয়োগ প্রক্রিয়াই অনিয়মে প্রভাবিত হয়েছে।” অন্যদিকে ধানবাদের এক ছাত্রী অভিযোগ করেন, পরীক্ষায় একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। তাঁর দাবি, বিভাগভিত্তিক কাট-অফ প্রকাশ করা হয়নি এবং OMR শিটেও ত্রুটি রয়েছে।

JPSC-তেও CID তদন্ত

শুধু JSSC নয়, JPSC নিয়োগ নিয়েও তদন্ত চলছে। ঝাড়খণ্ড CID ইতিমধ্যেই JPSC-র বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই মামলায় প্রায় আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন—

– প্রাক্তন JPSC ডেপুটি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শ্বেতা গুপ্তা,

– TDPL-এর পরিচালক রামবীর সিং,

– মহম্মদ উসমান,

– মহম্মদ এবাদ,

– অভয় কুমার তিওয়ারি।

এছাড়া, আগে গ্রেফতার হওয়া আরও পাঁচজনকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

CBI তদন্তের দাবি বিজেপির

JPSC ও JSSC-কে ঘিরে ওঠা একাধিক নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিজেপি এই ঘটনাগুলির CBI তদন্ত দাবি করেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে।

ঝাড়খণ্ড বিজেপির সভাপতি আদিত্য সাহু-র নেতৃত্বে বিজেপি সাংসদরাও সংসদ চত্বরে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন বলে জানা গেছে।

ঝাড়খণ্ড বিজেপির মুখপাত্র প্রতুল শাহ দেও রাজ্য সরকারের সমালোচনা করে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার দাবি তুলেছেন। উল্লেখ্য, ঝাড়খণ্ডে শিক্ষা দপ্তরের দায়িত্ব বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন-এর হাতেই রয়েছে।

নতুন করে প্রশ্ন উঠছে 

একদিকে ৯৯.৭ শতাংশ নম্বর পাওয়ার দাবি করা পরীক্ষার্থীর নির্বাচিত না হওয়ার অভিযোগ, অন্যদিকে নিয়োগে দুর্নীতি, জালিয়াতি, গ্রেফতারি, ছাত্র আন্দোলন এবং CID তদন্ত—সব মিলিয়ে ঝাড়খণ্ডের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। চাকরিপ্রার্থীদের দাবি, পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে হবে এবং সমস্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।