Monday, June 24, 2024
কলকাতা

চলে গেলেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক রমাপদ চৌধুরী

কলকাতা: চলে গেলেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক রমাপদ চৌধুরী। রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে কলকাতার বেলভিউ নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৬ বছর। বার্ধক্যজনিত সমস্যা সহ একাধিক শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি।

শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ২১ জুলাই তাঁকে বেলভিউ নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে রেখে গেছেন স্ত্রী, দুই মেয়েসহ অসংখ্য ভক্ত ও গুণগ্রাহী। আজ সোমবার তাঁর শেষকৃত্য হবে। ইতিমধ্যে সাহিত্যিকের প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

১৯২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর খড়গপুরে জন্মগ্রহণ করেন রমাপদ চৌধুরী। কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইংরেজিতে স্নাতক করেন। ছোটবেলা থেকেই লেখালেখিতে জড়িয়ে পড়েন রমাপদ। লিখেছেন বহু উপন্যাস, গল্প ও প্রবন্ধ। বিভিন্ন ভাষায় তাঁর গল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধ অনুবাদ রয়েছে। তাঁর উপন্যাস নিয়ে চলচ্চিত্রও হয়েছে। তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘প্রথম প্রহর’। আর তাঁর শেষ লেখা ছিল আত্মজীবনীমূলক বই ‘হারানো খাতা’। তাঁর লেখা অন্যান্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে ‘লাল বাই’, ‘খারিজ’, ‘বাহিরি’, ‘বনপলাশীর পদাবলী’, ‘বাড়ি বদলে যায়’, ‘ছাদ’, ‘শেষের সীমানা’, ‘আকাশপ্রদীপ’, ‘যে যেখানে দাঁড়িয়ে’, ‘পিকনিক’, ‘এখনই’, ‘দ্বীপের নাম টিয়া রঙ’, ‘অভিমন্যু’, ‘বীজ’, ‘দরবারি’ ইত্যাদি। তাঁর লেখা উপন্যাস ‘বন পলাশীর পদাবলী’, ‘দ্বীপের নাম টিয়া রঙ’, ‘এখনই’, ‘পিকনিক’, ‘বীজ’, ‘অভিমন্যু’ নিয়ে চলচ্চিত্র হয়েছে। এসব ছবিতে অভিনয় করেছেন উত্তমকুমার, তপন সিংহ, মৃণাল সেন প্রমুখ তারকা।

১৯৬৩ সালে আনন্দ পুরস্কার পান রমাপদ চৌধুরী। ১৯৭১ সালে রবীন্দ্র পুরস্কার, ১৯৮৮ সালে ‘বাড়ি বদলে যায়’ উপন্যাসের জন্য সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কার, ২০১১ সালে পান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মেমোরিয়াল ইন্টারন্যাশনাল পুরস্কার ছাড়াও একাধিক সম্মানে ভূষিত হন তিনি।