Monday, May 27, 2024
সম্পাদকীয়

নিরীহ জীব মারতে পারত না প্রীতিলতা, কিন্তু স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিতে বা নিতে সে সদা প্রস্তুত ছিল

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: প্রীতিলতা এন্ট্রান্সে (মাধ্যমিকে) ভালো ফল করেছিল। উচ্চ মাধ্যমিকে মেয়েদের মধ্যে প্রথম আর সবার মধ্যে পঞ্চম হয়েছিল। বৃত্তি পেয়েছিল ৮০ টাকা।

বেথুন কলেজ থেকে বিএ পাশ করেন মেয়েটি। কিন্তু রেজাল্ট পাননি। শংসাপত্র পাননি। নিজের জেলায় ফিরে গিয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন। প্রীতিলতা বাঁশী বাজাতে জানতেন।

প্রীতিলতা কম বয়স থেকে লাঠি ছোরা চালাতে জানতেন। জানতেন কীভাবে দলকে নেতৃত্ব দিতে হয়। পড়াতে যাচ্ছি বলে একদিন বাড়ি ছাড়েন। কারণ বাড়িতে থাকলে এনকাউন্টারে মরতে হতো। ইতোমধ্যে এমনও হয়েছে এনকাউন্টারে দলের অন্যেরা মারা গিয়েছে, মেয়েটি তার গুরুর সাথে পানাপুকুরে রাতের অন্ধকারে সাঁতরে প্রাণে বেঁচিয়েছে কোনোক্রমে। ইওরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণে তিনি নেতৃত্ব দেন। ইংরেজদের এই ক্লাবের বাইরে বোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল যা ভারতীয়দের পক্ষে অপমানকর ছিল। এই বোর্ডে লেখা ছিল ‘শুধুমাত্র কুকুর ও ভারতীয়দের প্রবেশ নিষিদ্ধ এখানে।’

১০.৪৫ মিনিটে প্রীতিলতার নেতৃত্বে বিপ্লবীরা হামলা চালাল ইংরেজদের ক্লাবে। তিনটি গ্রুপে ভাগ হয়ে বিপ্লবীদের এই হামলায় দিশেহারা হয়ে যায় ব্রিটিশরা। হামলায় সময় ক্লাবের ভিতরে ৪০ জন ছিলেন। এদের মধ্যে কয়েক জন ইংরেজ পুলিশ অফিসারও ছিলেন। তারা পাল্টা গুলি চালাতে থাকে। প্রীতিলতাদের ছোড়া গুলিতে সুলিভান নামে এক ইংরেজ মহিলার মৃত্যু হয়। জখম হয় চার জন পুরুষ ও সাত জন মহিলা।

ব্রিটিশ পুলিশের ছোড়া গুলিতে জখম হন প্রীতিলতা। ঘটনাস্থলেই মুখে পটাশিয়াম সায়ানাইড ক্যাপসুল ভরে নেন প্রীতি। পরের দিন ক্লাবের পিছন থেকে প্রীতিলতার দেহ উদ্ধার হয়। এছাড়াও তাঁর ব্যাগ থেকে মেলে বিপ্লবী রামকৃষ্ণ বিশ্বাসের একটি ছবি, কিছু লিফলেট, কার্তুজ, বাঁশি এবং হামলার বিস্তারিত তথ্য সম্বিলিত নকসা।

ওঁর বন্ধু কল্পনা দত্ত লিখেছিলেন, ‘নিরীহ জীব মারতে পারত না প্রীতি। কিন্তু স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিতে বা নিতে সে সদা প্রস্তুত ছিল।’

অজ্ঞাতবাস থেকে মাকে লিখেছিলেন, “দেশ স্বাধীন করার জন্যে এখনও কন্যারা প্রাণ দেননি। তাদের অনুপ্রেরণা দিতেই তিনি মৃত্যুবরণ করছেন।”

স্নাতক হওয়ার আশি বছর পর বেথুন কলেজ তাকে ডিগ্রি দেয়।

ভালো ছাত্র হওয়া মানেই দেশ-দশ সম্পর্কে উদাসীন হওয়া নয়, আত্মকেন্দ্রিক হওয়া নয়। স্বার্থপর প্যাকেজলোভী কর্পোরেট, গরিবের পকেট কাটা ডাক্তার হওয়া নয়। ভালো ছাত্রের দায়িত্ব বেশি। তার দৃষ্টি প্রসারিত হওয়ার কথা। তার লক্ষ্য বড়। অনেকের জন্য ভাবার দায় তার, তার দিকেই তাকিয়ে আছে নিরন্ন পিছিয়ে পরা নানা ভাবে বঞ্চিত মানুষ। শুভেচ্ছা-সহ এ কথাটা তাদের কে কেউ জানিয়ে দিক..💫🌿

তথ্য ✒️ অর্ক দেব, ওয়ান ইন্ডিয়া 

ছবিওয়ালা🖌️কৃষ্ণেন্দু মন্ডল 

© এক যে ছিলো নেতা