বোরকা পরে ব্যাঙ্ক চত্বরে ঢোকা যাবে না, নোটিশ জারি করে চাপে স্টেট ব্যাঙ্কের শাখা
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার একটি শাখা (Mumbai SBI Branch) ব্যাঙ্ক চত্বরে বোরকা পরে ঢোকা যাবে না বলে নির্দেশিকা জারি করেছিল। এই মর্মে নোটিশ জারি করার পরে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। নেটিজেনদের একাংশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ উগড়ে দেন। চাপের মুখে পড়ে নোটিশটি সরিয়ে নেয় কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে, মুম্বাইয়ের নেহরু নগর শাখা নিরাপত্তার প্রশ্নে ওই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। শাখাটি মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা কুর্লা পূর্বের নেহেরু নগরে অবস্থিত। মুসলিম অধ্যুষিত ওই এলাকার মুসলিম মহিলাদের একাংশ বোরকা পরেন।
কুর্লার নেহেরু নগর স্টেট ব্যাঙ্কের ওই শাখা বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিলাম, “শাখার ভেতরে বোরখা, স্কার্ফ নিষিদ্ধ।” শেখ সাজেদ আকবর নামে এক বাসিন্দা জানিয়েছেন নোটিশটি কয়েকদিন আগে সাঁটানো হয়েছিল। আমরা বেশ কয়েকজন এটি টুইট করেছি এবং ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা জানি না কেন এমন নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।
এই সপ্তাহের শুরুতে, স্থানীয়রা এবং সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা ক্ষোভ দেখানোয় ব্যাঙ্ক ওই নোটিশটি সরিয়ে নেয়। ৩ নভেম্বর একটি টুইট বার্তায়, স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া জানিয়েছে যে নোটিশটি শুধুমাত্র নগদ তোলা এবং অন্যান্য আর্থিক লেনদেনের সময় নিরাপত্তার জন্য রাখা হয়েছিল। অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিল না।
উল্লেখ্য, নিরাপত্তার প্রশ্নে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ বোরকা, হিজাব নিষিদ্ধ করেছে। ২০১৯ সালে শ্রীলঙ্কায় বিস্ফোরণে ২৫০ জনেরও বেশি লোক নিহত হওয়ার এক সপ্তাহ পরে রাষ্ট্রপতি মাইথ্রিপালা সিরিসেনা মহিলাদের জনসমক্ষে যে কোনও ধরণের মুখের পর্দা পরা অবৈধ ঘোষণা করেছিল।
তবে ভারতে এই ধরনের ঘটনা আগে কি কখনও ঘটেছে? শ্রেয়া পারিখ তাঁর ২০১৯ সালের একটি নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন, বোরকা পরিহিত মহিলাদের লখনউ মেট্রোতে উঠতে দেওয়া হয়নি। কারণ তারা তাদের বোরকা সরাতে অস্বীকার করেছিল। ফিরোজাবাদের এসআরকে কলেজ কিছু ছাত্রীকে বোরকা পরা থাকার কারণে কলেজে প্রবেশ করতে দিতে অস্বীকার করেছিল।

গুরুদাস কলেজ থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতক এরপর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর। দীর্ঘ ৫ বছর ধরে ডিজিটাল সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত।

