Tuesday, April 14, 2026
Latestআন্তর্জাতিকদেশ

রাশিয়ার থেকে ৩০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল কিনছে ভারত

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় ইরানকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ নিল ভারত। সূত্রের খবর, রাশিয়ার কাছ থেকে অতিরিক্ত প্রায় ৩০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আগাম মজুত বাড়াতেই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে।

জানা গিয়েছে, সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসনের তরফে রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে ভারতকে ৩০ দিনের একটি বিশেষ ‘ছাড়’ বা উইন্ডো দেওয়া হয়েছে। সেই সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছে নয়াদিল্লি। কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সময় যে নীতিগত অবস্থান নেওয়া হয়েছিল, তার ভিত্তিতেই এই অস্থায়ী ছাড় কার্যকর হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত তেল আমদানি করার সুযোগ পেয়েছে ভারত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হঠাৎ করে বেড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহনে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। বিশ্বে মোট তেল পরিবহনের একটি বড় অংশই এই প্রণালী দিয়ে হয়। তাই আগাম পরিস্থিতি মাথায় রেখে ভারত তার কৌশলগত জ্বালানি মজুত বাড়ানোর পথে হাঁটছে।

বর্তমানে ভারতের মোট তেল আমদানির বড় অংশই আসে রাশিয়া থেকে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা দেশগুলি রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও ভারত তুলনামূলক কম দামে রুশ তেল কিনে আসছে। এর ফলে দেশের জ্বালানি ব্যয় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত ৩০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল কেনার ফলে ভারতের কৌশলগত মজুত আরও শক্তিশালী হবে।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই অতিরিক্ত তেল আমদানির একটি অংশ কৌশলগত তেল ভাণ্ডারে সংরক্ষণ করা হতে পারে, যাতে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হলেও দেশের জ্বালানি সরবরাহে কোনও সমস্যা না হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব রাজনীতির এই অস্থির সময়ের মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন ভারতের প্রধান লক্ষ্য। তাই পরিস্থিতি সামাল দিতে আগাম পদক্ষেপ হিসেবেই রাশিয়ার কাছ থেকে অতিরিক্ত তেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র সরকার।