Tuesday, August 25, 2026
Latestকলকাতা

‘ওরা চাইলে আমার ছেলেকে বাঁচাতে পারতো, কিন্তু কিছু করেনি, ওদের জেলে পাঠানো উচিত’, আরজি কর কান্ডে গুরুতর অভিযোগ মৃতের বাবার

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ফের এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘিরে উঠল তীব্র বিতর্ক। শুক্রবার সকালে লিফটে আটকে পড়ে মৃত্যু হল দমদমের বাসিন্দা ৪০ বছর বয়সি অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত গাফিলতির জেরেই এই মৃত্যু।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, অসুস্থ চার বছরের সন্তানের অস্ত্রোপচারের জন্য স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে ট্রমা কেয়ার সেন্টারে এসেছিলেন অরূপ। ভোরের দিকে পাঁচতলায় যাওয়ার সময় লিফটে ওঠেন তাঁরা। অভিযোগ, লিফটটি হঠাৎই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বেসমেন্টে নেমে গিয়ে আটকে যায়। ভিতরে আটকে পড়েন অরূপ, তাঁর স্ত্রী ও সন্তান।

লিফটের ভিতর থেকে আর্তচিৎকার শুনে বাইরে জড়ো হন আত্মীয়রা। অরূপের বাবা অভিযোগ করেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত হাসপাতাল কর্মী ও হোমগার্ডদের একাধিকবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও দ্রুত কোনও উদ্ধারকাজ শুরু হয়নি। তাঁর দাবি, “সময়ে ব্যবস্থা নিলে আমার ছেলে বাঁচত। ওদের জেলে পাঠানো উচিত।”

অভিযোগ আরও, লিফটের চাবি পূর্ত দফতরের (PWD) কাছে রয়েছে বলে জানানো হয়। লিফটে যোগাযোগ নম্বর লেখা থাকলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। দমকলকে খবর দেওয়ার প্রস্তাবও নাকি উপেক্ষা করা হয়। প্রায় দু’ঘণ্টা পর লিফট ভাঙার চেষ্টা শুরু হয় বলে দাবি পরিবারের।

ঘটনায় আরও উঠে এসেছে রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন। হাসপাতালে ভর্তি অন্যান্য রোগীর পরিজনদের একাংশের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট লিফটটি প্রায়ই বিকল হত। দুর্ঘটনার সময় কোনও লিফট অপারেটরের উপস্থিতিও ছিল না বলে দাবি।

অন্যদিকে, আরজি করের উপাধ্যক্ষ তথা সুপার সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, লিফটে আটকে পড়ার পর উদ্ধারকাজ চলাকালীন হঠাৎ লিফট ঝাঁকুনি দিয়ে নড়ে ওঠে, তাতেই গুরুতর আঘাত পান অরূপ। তাঁকে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। প্রাথমিকভাবে যান্ত্রিক ত্রুটি অস্বীকার করলেও, পুরো ঘটনার তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

ঘটনার পর কলকাতা পুলিশের ডিসি (নর্থ) হাসপাতালে পৌঁছে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। মৃতের বাবার অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি লিফট রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা বিদ্যুৎ ও পূর্ত দফতরের কাছ থেকেও রিপোর্ট তলব করা হয়েছে।

এই ঘটনায় সরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। রোগী ও পরিজনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।