Thursday, August 27, 2026
Latestআন্তর্জাতিক

ভারতে ৬০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে জাপান

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: দু’দিনের জাপান সফর সেরে চিন সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অঙ্গনে মার্কিন শুল্কনীতিকে কেন্দ্র করে ভারত–আমেরিকা দ্বন্দ্বের আবহেই এই সফরকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।

সফরের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ভারত–জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব। টোকিও সরকার ঘোষণা করেছে, আগামী এক দশকে ভারতে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ করবে জাপান। শুধু অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেই নয়, প্রতিরক্ষা এবং মহাকাশ মিশনেও উভয় দেশ ১০ বছরের রোডম্যাপ সহ বেশ কিছু বড় চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

শুক্রবার টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। বৈঠক শেষে বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্ত্রি জানান, ‘নিরাপত্তা এবং সমৃদ্ধির জন্য অংশীদারিত্ব’ শীর্ষক একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। উভয় নেতা এক উন্মুক্ত ও স্বাধীন ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার কথা জানিয়েছেন। একইসঙ্গে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ভারতের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে জাপান।

সফরে বুলেট ট্রেনেও চড়েন মোদী। টোকিও থেকে সেন্ডাই পর্যন্ত যাত্রায় তাঁর সঙ্গী ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা। এই প্রতীকী সফরকে দুই দেশের প্রযুক্তিগত সহযোগিতার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছেন, ভারত–জাপান সহযোগিতা শুধু অবকাঠামো উন্নয়নেই সীমাবদ্ধ নয়। আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স, সেমি-কনডাক্টর, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি–সহ একাধিক খাতে বিনিয়োগ করবে জাপান। তাঁর দাবি, এই চুক্তি নতুন প্রজন্মের জন্য নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির বার্তা বহন করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এমন এক সময়ে স্বাক্ষরিত হয়েছে, যখন মার্কিন শুল্কনীতির জেরে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। যদিও মোদি বা ইশিবা কেউই প্রকাশ্যে আমেরিকার নাম উল্লেখ করেননি, তবে তাঁদের বার্তায় স্পষ্ট হয়েছে—জাতীয় স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার দিকেই জোর দিচ্ছে দুই দেশ।

জাপান সফর শেষ করে চিনের তিয়ানজিন শহরে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।