Thursday, April 25, 2024
শিক্ষাঙ্গন

কাশ্মীর প্রসঙ্গ

১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীনতা লাভের পর ক্ষমতা লাভের পর ক্ষমতা হন্তান্তরের শর্তানুযায়ী কাশ্মীরের মহারাজা হরি সিং কাশ্মীর রাজ্যকে স্বতন্ত্র ও স্বাধীন রাজ্য হিসাবে গণ্য করেন। ভারত ও পাকিস্থানের সীমান্তে অবস্থিত কাশ্মীর ছিল আন্তর্জাতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল।

হরি সিং

কাশ্মীরের শাসক হরি সিং হিন্দু ধর্মাবলম্বী হলেও তার সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রজারা ছিল মুসলিম। কাশ্মীর সমস্যা নিয়ে ভারত-পাকিস্থানের মধ্যে সম্পর্ক তিক্ত হয়ে ওঠে। ভারতের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ কাশ্মীরের ভারতভুক্তি নিয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহন করেননি। কিন্তু কাশ্মীরের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম থাকার অজুহাতে পাকিস্থান কাশ্মীরের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বলপ্রয়োগ নীতি গ্রহণ করে। ১৯৪৭ সালের ২২শে অক্টোবর পাকিস্থানের মদতে পাঠান উপজাতিরা কাশ্মীর আক্রমণ করে। মহারাজা এই আক্রমণ প্রতিরোধে ভারতের সাহায্য প্রার্থনা করেন। ২৬ শে অক্টোবর হরি সিং ভারতভুক্তি দলিলে সই করে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত ইউনিয়নে যোগ দেয়।

হরি সিং ভারতীয় সামরিক বাহিনী বিমানযোগে শ্রীনগরে অভিযান করে আক্রমণকারীদের বিতারিত করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নেহেরু জাতিপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে অভিযোগ করেন যে, কাশ্মীর বৈধভাবে ভারতে যোখ দিলেও পাকিস্থান কাশ্মীরে আক্রমণ চালাচ্ছে। নিরাপত্তা পরিষদ ১৯৪৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর কাশ্মীরের যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা করে। এই যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা করার ফলে যুদ্ধ বিরতি সীমারেখার অপরদিকে কাশ্মীর বাহিনীর অধিকারে থাকে। ভারত কাশ্মীরকে তার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ মনে করে। পাকিস্থান কাশ্মীরকে ভারতের অংশ বলে মেনে নিতে অস্বীকার করে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, কাশ্মীরের ভারতভুক্তির প্রশ্ন জাতিপুঞ্জ এখনও অনুমোদন করিনি এবং প্রশ্নটি অমীমাংসিত আছে। কাশ্মীর সমস্যা আজও বিদ্যমান।