আগামী ৩-৪ বছরের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে সম্পূর্ণ বন্দে ভারত ট্রেন রপ্তানি করবে ভারত: রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে সম্পূর্ণ বন্দে ভারত (Vande Bharat) ট্রেন রপ্তানি শুরু করার পরিকল্পনা করেছে ভারত। রবিবার এই কথা জানালেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।
১ নভেম্বর বেঙ্গালুরু-মুম্বাই বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ভারতীয় রেল প্রতিটি নতুন সংস্করণের বন্দে ভারত ট্রেনের প্রযুক্তি ও পরিকাঠামোর উন্নতি করছে। আগের সংস্করণগুলি থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রতিবারই নতুন ট্রেনের নকশা ও প্রযুক্তিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে।’
রেলমন্ত্রী বলেন, “আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ভারত সম্পূর্ণ ট্রেনও বিদেশে রপ্তানি করতে শুরু করবে।’
তিনি আরও জানান, ‘ভারত ইতিমধ্যেই সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি এবং আমেরিকার মতো দেশে রেলওয়ের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম রপ্তানি করছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রপালশন সিস্টেম এবং বগি। সম্পূর্ণ বন্দে ভারত ট্রেন রপ্তানি শুরু হলে ভারতের রেল সরঞ্জাম রপ্তানির পরিধি আরও বাড়বে।’
রেল মন্ত্রকের তরফে ২০২৬ সালের মার্চ মাসে সংসদে জানানো তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষ থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতীয় রেলওয়ের রোলিং স্টক ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশের রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা। ভারতীয় সংস্থাগুলি বর্তমানে বিদেশের বাজারের জন্য রেল ইঞ্জিন, যাত্রীবাহী কোচ, ট্র্যাকশন মোটর, প্রপালশন সিস্টেম-সহ বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরি করছে।
বিদেশের বাজারে বন্দে ভারত পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতি
ভারতীয় রেল এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ইঞ্জিনিয়ারিং পরামর্শদাতা সংস্থা RITES লিমিটেড আন্তর্জাতিক বাজারে বন্দে ভারত ট্রেন রপ্তানির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে।
বিদেশের বাজারের কথা মাথায় রেখে স্ট্যান্ডার্ড গেজ (Standard Gauge) সংস্করণের বন্দে ভারত ট্রেন তৈরির কাজেও সহযোগিতা করছে RITES। উল্লেখ্য, ভারতে বর্তমানে বন্দে ভারত ট্রেনগুলি ব্রড গেজ (Broad Gauge) লাইনে চলাচল করে। অন্যদিকে, বিশ্বের একাধিক দেশের রেল নেটওয়ার্কে স্ট্যান্ডার্ড গেজ ব্যবহার করা হয়।
চালু হলো বেঙ্গালুরু-মুম্বাই বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস
অন্যদিকে, রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের এই ঘোষণার দিনই উদ্বোধন করা হয়েছে বেঙ্গালুরু-মুম্বাই বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেসের। প্রায় ১,১১৮ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে ট্রেনটির সময় লাগবে প্রায় ১৬ ঘণ্টা।
কেন্দ্রীয় রেল প্রতিমন্ত্রী ভি সোমান্না জানিয়েছেন, ‘এই ট্রেন চালু হলে সংশ্লিষ্ট রুটে বর্তমানে চলাচলকারী ট্রেনগুলির তুলনায় যাত্রার সময় প্রায় আট ঘণ্টা কমবে।’
সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (AC) এই ট্রেনটিতে রয়েছে মোট ১৬টি কোচ এবং ৮২৩টি বার্থ। যাত্রীরা ফার্স্ট এসি (First AC), এসি টু-টিয়ার (AC Two-Tier) এবং এসি থ্রি-টিয়ার (AC Three-Tier) শ্রেণিতে যাতায়াত করতে পারবেন।
২ নভেম্বর থেকে মুম্বাই থেকে এবং ৩ নভেম্বর থেকে বেঙ্গালুরু থেকে ট্রেনটির নিয়মিত পরিষেবা শুরু করবে।
বেঙ্গালুরুর স্যার এম বিশ্বেশ্বরাইয়া টার্মিনাল থেকে সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে ট্রেনটি ছেড়ে পরদিন সকাল ১১টা ৫৫ মিনিটে মুম্বাইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাসে পৌঁছবে।
অন্যদিকে, মুম্বাই থেকে রাত ৮টা ১০ মিনিটে ছেড়ে পরদিন দুপুর ১২টায় বেঙ্গালুরু পৌঁছবে ট্রেনটি।
সপ্তাহে ছয় দিন চলবে এই পরিষেবা। বেঙ্গালুরু থেকে সোমবার এবং মুম্বাই থেকে মঙ্গলবার ট্রেনটি চলবে না।

