Saturday, October 31, 2026
Latestদেশ

দীপাবলির আগে রাহুলের নেতৃত্বে INDI জোটের সমাবেশ, ব্যবসায় ক্ষতির আশঙ্কায় সোনিয়া গান্ধীর দ্বারস্থ দিল্লির ব্যবসায়ীরা

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: দীপাবলির আগে দিল্লিতে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে INDI জোটের ১ নভেম্বরের সমাবেশ ঘিরে ব্যবসায় বড়সড় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন দিল্লির ব্যবসায়ীরা। সমাবেশের দিনক্ষণ পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়ে এবার কংগ্রেস সংসদীয় দলের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা। এর আগে রাহুল গান্ধীকে তিনবার চিঠি লিখেও কোনও ইতিবাচক সাড়া পাননি ব্যবসায়ীরা।

দিল্লির ব্যবসায়ীদের সংগঠন চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (CTI) সোনিয়া গান্ধীর কাছে আবেদন জানিয়েছে, দীপাবলি শেষ না হওয়া পর্যন্ত রামলীলা ময়দানে প্রস্তাবিত সমাবেশটি পিছিয়ে দেওয়া হোক। ব্যবসায়ীদের দাবি, এই সমাবেশের কারণে দিল্লির প্রায় ২০টি বড় বাজারে ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

উল্লেখ্য, আগামী ১ নভেম্বর কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন INDI জোটের এই সমাবেশের মূল উদ্দেশ্য নির্বাচনে কথিত ‘ভোট চুরি’ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও জোরদার করা। পাশাপাশি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও জানানো হবে।

এই পরিস্থিতিতে সোনিয়া গান্ধীর কাছে ব্যবসায়ীদের আবেদন যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, বর্তমানে কংগ্রেসের দৈনন্দিন সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাঁর ভূমিকা আগের তুলনায় কম। অন্যদিকে, রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা দলের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বিষয়ে বেশি সক্রিয়।

তবে ব্যবসায়ীদের একাংশের ধারণা, সোনিয়া গান্ধী তাঁদের আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনা করে কোনও মধ্যস্থতা করতে পারেন।

তবে দিল্লির ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সোনিয়া গান্ধীর সাক্ষাৎকে প্রতীকী স্বীকৃতি হিসেবে দেখা যেতে পারে। এর ফলে সমাবেশের সময়সীমা কমানো, কর্মসূচির সময় কয়েক ঘণ্টা কমিয়ে আনা কিংবা দিনের প্রথমার্ধেই প্রতিবাদ কর্মসূচি শেষ করার মতো কোনও সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে মনে করছেন কিদওয়াই।

সোনিয়া গান্ধীর বাস্তববাদী রাজনৈতিক কৌশলের নজির কী?

রাহুল গান্ধী ও সোনিয়া গান্ধীর নেতৃত্বের ধরনেও পার্থক্য রয়েছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। রাহুল গান্ধীর কাছে বারবার আবেদন জানিয়েও সাড়া না পাওয়ার পর ব্যবসায়ীরা সোনিয়া গান্ধীর দ্বারস্থ হওয়ার পিছনে এই ধারণাও কাজ করতে পারে।

অন্যদিকে, রাহুল গান্ধী প্রচলিত নেতৃত্বের ধরনে বেশি বিশ্বাসী। তাঁর সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি তুলনামূলকভাবে সরাসরি, ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন এবং নির্দিষ্ট বলে ব্যাখ্যা করেছেন কিদওয়াই।

এই পরিস্থিতিতে দিল্লির ব্যবসায়ীদের আবেদন সোনিয়া গান্ধী কীভাবে বিবেচনা করেন এবং ১ নভেম্বরের সমাবেশের কর্মসূচিতে কোনও পরিবর্তন আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।