Sunday, October 4, 2026
Latestআন্তর্জাতিক

ওমানে ব্যান করা হয়েছিল পাইলট হামাম আল-হাম্মামিকে, ক্যাপ্টেন স্মিতকে খুন করে ৯/১১ কায়দায় ইসরায়েলে হামলার পরিকল্পনা ছিল?

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের উড়ানে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে মাঝআকাশে আক্রমণ ও ছুরিকাঘাতের অভিযোগে অভিযুক্ত ওমানি কো-পাইলটের পরিচয় প্রকাশ্যে এসেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত কো-পাইলটের নাম হামাম আল-হাম্মামি। তার বয়স ২৯ বছর বলে জানা গিয়েছে। আল-আরাবিয়ার সূত্রের দাবি, তার অতীত এবং উগ্রবাদী মতাদর্শ নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আল-হাম্মামি দীর্ঘ সময় ওমানের বাইরে, বিশেষ করে সিরিয়ায় কাটিয়েছিলেন। সেখানেই তার মতাদর্শে পরিবর্তন আসে বলে তদন্তকারী সূত্রগুলির দাবি। তার উগ্রবাদী মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগের কারণে ওমান কর্তৃপক্ষ একসময় তাকে বিমান চালানো থেকে নিষিদ্ধ করেছিল বলেও একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তিনি ওমান ছেড়ে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে চলে যান এবং সেখানে ফ্লাইদুবাইয়ের পাইলট হিসেবে কাজ শুরু করেন।

উগ্রবাদী মতাদর্শের অভিযোগ

আল-হাম্মামির অতীত নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে একাধিক দাবি সামনে এসেছে। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তকারীদের ধারণা তিনি আল-কায়েদার মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন এবং এই প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের সংস্পর্শে এসেছিলেন। তার কোনও উগ্রবাদী নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম আই২৪নিউজের একটি প্রতিবেদনে তদন্ত-সম্পর্কিত সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে দাবি করা হয়েছে, আল-হাম্মামি তদন্তকারীদের কাছে বিমানটি ইজরায়েলের মাটিতে ক্রাশ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। তবে তার এই বক্তব্য এবং হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে তদন্ত এখনও চলছে।

অন্যদিকে, তার পূর্ববর্তী বিমানচালনা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওমানের বিমান সংস্থায় প্রশিক্ষণের সময় তার মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। এমনকি ২০২৪ সালে উগ্রপন্থী ইসলামপন্থী ওয়েবসাইট পরিদর্শনের অভিযোগে তাকে বিমান চালানো থেকে বিরত রাখা হয়েছিল বলে ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ফলে প্রশ্ন উঠছে, ওমানে বিমান চালানোর ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা বা উদ্বেগের বিষয়টি থাকা সত্ত্বেও পরবর্তীতে কীভাবে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে বাণিজ্যিক বিমানের কো-পাইলট হিসেবে কাজের সুযোগ পেলেন। এই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

মাঝআকাশে ভয়াবহ হামলা

গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানটি। মাঝআকাশে ককপিটের ভিতর আল-হাম্মামি ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে আক্রমণ ও ছুরিকাঘাত করেন বলে অভিযোগ। ঘটনার পর বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করে।

গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও ক্যাপ্টেন মাচ্ছার ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এর ফলে ক্রু সদস্য ও যাত্রীরা ককপিটে ঢুকে অভিযুক্ত কো-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। একই সময়ে বিমানে থাকা দায়িত্বে না থাকা আরও দুই পাইলট বিমানটির নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করেন। পরে বিমানটি সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করে।

পরবর্তীতে ক্যাপ্টেন মাচ্ছার জানিয়েছেন, বিমানটি দ্রুত নীচে নামতে শুরু করায় তিনি বুঝতে পারেন পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক। গুরুতর আহত অবস্থাতেও ককপিটের দরজা খোলার চেষ্টা চালিয়ে যান তিনি। তার সেই পদক্ষেপের পরই যাত্রী ও ক্রুরা ককপিটে ঢুকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।

তদন্তে একাধিক দেশের নজর

ঘটনার পর আল-হাম্মামিকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে UAE-তে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে হামলার পেছনে কোনও সন্ত্রাসবাদী যোগাযোগ বা সংগঠিত নেটওয়ার্ক ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত করছে ইসরায়েলও। এই ঘটনার পর FlightDudai ইসরায়েলে তাদের পরিষেবা বন্ধ রেখেছে।