SIR-এ সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টে জানালো নির্বাচন কমিশন
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে নিজেদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতির পক্ষে সওয়াল করলো নির্বাচন কমিশন। কমিশন জানিয়েছে, ‘SIR প্রক্রিয়ায় সমস্ত সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমেই নেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা আবেদনগুলি শুধুমাত্র সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। তাই সেগুলি খারিজ করা উচিত।’
সোমবার সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হলফনামায় নির্বাচন কমিশন তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করেছে। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) এবং নতুন ভোটারদের অন্তর্ভুক্তির জন্য গৃহীত পদ্ধতির বিষয়ে তিন নির্বাচন কমিশনারের মধ্যে দু’জন সহমত ছিলেন না। সেই প্রেক্ষিতেই কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
‘সর্বসম্মতিক্রমেই নেওয়া হয়েছে সিদ্ধান্ত’
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ‘২০২৫ সালের জুন, ২০২৫ সালের অক্টোবর এবং ২০২৬ সালের মে মাসে SIR প্রক্রিয়া সংক্রান্ত যে তিনটি নির্দেশ জারি করা হয়েছিল, সেগুলিও সর্বসম্মতিক্রমেই গৃহীত হয়েছিল।’
কমিশনের বক্তব্য, ‘কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের পরামর্শ, পর্যবেক্ষণ, ভিন্নমত এবং প্রশ্নগুলি বিবেচনায় নেওয়া হয়। একইভাবে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনারদের মতামতও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়। তবে কোনও ফাইল পর্যালোচনার সময় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) বা অন্য নির্বাচন কমিশনারদের করা মন্তব্য, প্রশ্ন কিংবা পরামর্শকে কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য করা যায় না।’
হলফনামায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলি থেকে পাঠানো ফাইল প্রথমে একজন নির্বাচন কমিশনারের কাছে যায়। এরপর তা অন্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে পাঠানো হয় এবং সবশেষে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে যায়। কমিশনের অনুমোদিত সিদ্ধান্তগুলি সংশ্লিষ্ট ফাইলে নথিভুক্ত করা হয় এবং তাতে নির্বাচন কমিশনার ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের স্বাক্ষর থাকে। এরপর নির্বাচন কমিশনের সচিবালয় সেই সিদ্ধান্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করে এবং কার্যকর করে।
আইনের ধারা উল্লেখ করে কমিশনের যুক্তি
নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে, ২০২৩ সালের আইনের ১৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বা অন্য নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে কিংবা কমিশনের কোনও আধিকারিকের সঙ্গে হওয়া আলোচনা, পরামর্শ, পর্যবেক্ষণ বা প্রশ্নকে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বলে বিবেচনা করা যায় না।
কমিশনের বক্তব্য, কোনও ফাইল বিবেচনার সময় আধিকারিকদের মধ্যে মতামতের আদানপ্রদান সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। তাই সেই পর্যায়ে করা মন্তব্য বা প্রশ্নের ভিত্তিতে কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলা যুক্তিসংগত নয়।

