Thursday, October 22, 2026
Latestআন্তর্জাতিকদেশ

‘বিজেপি ক্ষমতা থেকে না সরলে ভারতে পা রাখব না’: ককরোচদের সমর্থন জাকির নায়েকের, কংগ্রেসকে ক্ষমতায় দেখতে চান তিনি

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: পলাতক ইসলামি প্রচারক জাকির নায়েক দাবি করেছেন, কেন্দ্রে বিজেপি সরকার ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পরেই তিনি ভারতে ফিরবেন। রিপাবলিক ভারতের একটি গোপন স্টিং অপারেশনে এমনই মন্তব্য করতে শোনা গিয়েছে তাকে। ওই রেকর্ডিংয়ে ভারতে রাজনৈতিক পালাবদলের ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন জাকির নায়েক। অর্থ পাচার, সন্ত্রাসবাদে অর্থ জোগান এবং উসকানিমূলক বক্তব্য-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির নজরে রয়েছেন তিনি।

গোপন ক্যামেরায় রেকর্ড হওয়া কথোপকথনে জাকির নায়েককে বলতে শোনা গিয়েছে, নরেন্দ্র মোদী সরকারের আমলে ভারতে ফিরতে তিনি আশঙ্কা বোধ করেন। তার দাবি, দেশে ফিরলে তাকে আটক করা হতে পারে অথবা ফের বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ককরোচ জনতা পার্টির সঙ্গে যুক্ত অরাজকতাবাদীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন জাকির নায়েক। ওই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জনজীবনে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা এবং বাংলাদেশ ও নেপালের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার মতো পরিস্থিতি তৈরি করে সরকার পরিবর্তনের দাবিতে সরব হওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

গোপন রেকর্ডিংয়ে কংগ্রেসকে ক্ষমতায় দেখতে চাওয়ার ইঙ্গিত

স্টিং অপারেশনের সময় ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন নিয়ে নিজের পছন্দের কথা প্রকাশ করেছেন জাকির নায়েক। গোপন রেকর্ডিংয়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “রাহুল আরও ভালো!”

কংগ্রেস একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরতে পারবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কংগ্রেসের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া সম্ভব না-ও হতে পারে। তবে জোট গঠন করে কংগ্রেসকে ক্ষমতা দখল করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জাকির নায়েকের কথায়, “বিজেপি সম্পূর্ণভাবে ক্ষমতা থেকে নিশ্চিহ্ন না হওয়া পর্যন্ত আমি ভারতে পা রাখব না!”

কথোপকথনের সময় বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করার পাশাপাশি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) পদত্যাগের দাবিতে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক চাপকেও সমর্থন করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

এই মন্তব্যগুলির মাধ্যমে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলির জোট সরকার গঠনের প্রতি তার আগ্রহের ইঙ্গিত মিলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অতীতের বিতর্ক ও আইনি মামলা

২০১৬ সালে ভারত ছাড়ার পর থেকে জাকির নায়েক মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে বসবাস করছেন। ভারতে থাকাকালীন তিনি মুম্বাই-ভিত্তিক ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন (আইআরএফ)-এর প্রধান ছিলেন।

২০১৬ সালের ১৭ নভেম্বর ভারত সরকার বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (ইউএপিএ)-এর অধীনে আইআরএফ-কে বেআইনি সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে। এর পর মুম্বাইয়ের ডোংরিতে সংগঠনটির সদর দফতর বন্ধ করে দেয় পুলিশ। ঘৃণামূলক প্রচার চালানোর অভিযোগে ভারতে জাকির নায়েকের সম্প্রচার চ্যানেল ‘পিস টিভি’-র সম্প্রচারও বন্ধ করে দেওয়া হয়।

মালয়েশিয়াতেও তার বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মহাথির মহম্মদের আমলে সেখানে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পান তিনি। ২০১৯ সালে হিন্দু ও চিনা বংশোদ্ভূত মালয়েশীয়দের সম্পর্কে আপত্তিকর ও বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য করার অভিযোগে তাকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করে সে দেশের কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি, তার প্রকাশ্য বক্তৃতার ওপর নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়।

এ ছাড়া, ব্রিটেনের লেস্টারে হিংসায় উসকানি দেওয়ার সঙ্গেও জাকির নায়েকের নাম জড়িয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিদেশে থেকেও তার বক্তব্য উগ্রপন্থা ও রাজনৈতিক অস্থিরতাকে উৎসাহিত করছে বলে সমালোচকদের অভিযোগ।